আমাদের কমিউনিটিএডিটর্স পিকসখবরটপ স্টোরিজমানবিক কার্যক্রম/ চ্যারিটি

রামাদ্বান ফান্ড রেইজিং ।। ৫ বাংলা টেলিভিশনে ৭ মিলিয়ন পাউন্ড সংগৃহিত

ইব্রাহিম খলিল : এবারের রামাদ্বানে ফান্ড রেইজিং হয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির মোট ৬টি বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলে। এতে আপীল করেছে শতাধিক সংগঠন। এসব সংগঠনের মাধ্যমে উত্তোলিত হয়েছে প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড।
বিশ্বের নানা প্রান্তের অসহায়, দরিদ্র মানুষের জন্য পরিচালিত প্রজেক্ট এবং দেশে বিদেশে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্র্রাসার জন্য এসব অর্থ সংগৃহিত হয়। তবে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে ব্রিটেন, বাংলাদেশ, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের নানা প্রজেক্টে। এমন ধারনা পাওয়া গেছে টেলিভিশনগুলোর কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে।
বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালনাধীন টেলিভিশনগুলোর মধ্যে চ্যানেল এস থেকে একরাতের আপীলে সর্বোচ্চ অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করে এ বছর অর্থ সংগ্রহের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে রয়েছে ইস্ট লন্ডন মসজিদ। এই প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও চ্যানেল এস থেকে একরাতের আপীলে রেকর্ড ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করেছিলো ২০১৫ সালে। এর পরেই চলতি বছর এক আপীল থেকেই প্রায় ৩ লাখ পাউন্ড সংগৃহিত হয়েছে টিভিওয়ান টেলিভিশনে। নিউক্যাসল মস্ক এই অর্থ সংগ্রহ করে এ বছর অর্থ সংগ্রহের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে তৃতীয় অবস্থানে ক্যামিব্রজ মসজিদ। ব্রিটেনে প্রথম ইকো ফেন্ডলী এই মসজিদ চ্যানেল এস-এ আপীল করে এই পরিমান অর্থ সংগ্রহ করে। চলতি বছর দান সংগ্রহের দিক দিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সবগুলো প্রতিষ্ঠানই ব্রিটেনভিত্তিক মসজিদ ।
এছাড়াও চলতি বছর এনটিভি থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে ব্রিকলেন মসজিদ । এটিএন থেকে ৮৫ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে গরিব এন্ড এতিম ট্রাষ্ট। তুলনামূলকভাবে এ বছর দানের পরিমান আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বার বার চেষ্টা করেও ফান্ড রেইজিংয়ের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি চ্যানেল আই ইউরোপ থেকে।
নিচে সংক্ষেপে টেলিভিশনগুলোর এবারের রামাদ্বানে চ্যারিটি কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো :
চ্যানেল এস :
চ্যানেল এস টেলিভিশনে এ বছর ২১টি সংগঠনের মাধ্যমে আপীল হয়েছে মোট ২৬টি। এর মধ্যে ১৪টি মানবিক সাহায্য সংস্থা, ৪টি মসজিদ, ১টি দাওয়া প্রজেক্ট এবং ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলিয়ে ফান্ড রেইজ হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড। ফান্ড সংগ্রহের দিক দিয়ে বরাবরের ন্যয় এবারও চ্যানেল এস শীর্ষে রয়েছে। টেলিভিশনটির হেড অব চ্যারিটি তৌহিদুল করিম মুজাহিদ জানিয়েছেন, রামাদ্বান আপীলের পাশাপাশি টেলিশনের ইউনিক আরেকটি আপীল ‘রামাদ্বান ফ্যামিলি কমিটমেন্ট‘ সংক্ষেপে আরএফসি‘র মাধ্যমে সংগ্রিহিত হয়েছে প্রায় ১০০ হাজার পাউন্ড। যা ২০টি সংগঠনের মধ্যে সমানভাবে বন্টন করা হবে।
টিভি ওয়ান :
টিভি ওয়ানে ১২টি সংগঠন আপীল করেছে মোট ৩০টি। এর মধ্যে ৩টি মসজিদ, এডুকেশন ও দাওয়া প্রজেক্ট ২টি এবং ৭টি মানবিক সাহায্য সংস্থা। এবার নিউক্যাসল মসজিদ করজে হাসানা এবং ডোনেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে। টিভি ওয়ানের সিইও গোলাম রাসুল জানিয়েছেন, এবারের রামাদ্বানে এ পর্যন্ত ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রিহিত হয়েছে। তিনি আশা করছেন ব্যাংক একাউন্টগুলোতে এখনো দানের অর্থ জমা রাখছেন ডোনাররা। সব মিলিয়ে এক সময় দানের অর্থের পরিমান দাড়াতে পারে মোট ২ মিলিয়ন পাউন্ডে।
এনটিভি :
এনটিভিতে এ বছর রামাদ্বানে মোট ৩০টি আপীল করেছে ৩০টি সংগঠন। এর মধ্যে মসজিদ, চ্যারিটি সংস্থা এবং দাওয়া প্রজেক্ট রয়েছে। এবার সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে ব্রিকলেইন মসজিদ। টেলিভিশনের চ্যারিটি পার্টনার ও চ্যানেল এস‘র এমডি তাজ চৌধুরী জানান, এবারের রামাদ্বানে এনটিভিতে মোট ফান্ডরেইজিংয়ের পরিমান প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড। তিনি ব্যক্তিগতভাবে গত কয়েক বছর ধরে এনটিভির ফান্ডরেইজিং কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করছেন। সচ্ছতা, জবাবদিহিতীতা থাকায় প্রতিবছরই এনটিভিতে দান সংগ্রহে তুলনামূলক ভালো সাড়া মিলছে।
এটিএনবাংলা ইউকে :
এটিএন বাংলা ইউকেতে মোট ২৮টি আপীল করেছে ১৬টি সংগঠন। টেলিভিশনটির সিইও হাফিজ আলম বক্স জানিয়েছেন, এসব আপীলে গড়ে দান সংগ্রিহ হয়েছে ২৫ হাজার পাউন্ড করে। যার মোট সংগ্রহের পরিমান প্রায় ৭০০ হাজার পাউন্ড। এর মধ্যে একরাতেই সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেছে গরিব এন্ড এতিম ট্রাষ্ট।
ইক্বরা বাংলা :
ইক্বরা বাংলা টেলিভিশনে এবার সবচেয়ে কম সংগঠন ফান্ড রেইজ করেছে। মোট ৮টি সংগঠনের মাধ্যমে ২৯টি আপীলে সংগ্রিহিত হয়েছে মোট ১.৮ মিলিয়ন পাউন্ড। এর মধ্যে আল খায়ের ফাউন্ডেশন একাই সংগ্রহ করেছে ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়, ইক্বরা বাংলা টেলিভিশন। ইক্বরা টেলিভিশনের চ্যারিটি ম্যানেজার আ স ম মাসুম জানিয়েছেন এবার মানবিক কার্যক্রমূলক চ্যারিটির জন্য সবচেয়ে বেশী সাড়া মিলেছে।

বর্হিবিশ্বে বাংলা ভাষার প্রথম স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ‘বাংলা টিভি‘ সম্প্রচার বন্ধ থাকায়। এ বছর ফান্ড রেইজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এই টেলিভিশনও অতীতে মানবিক কার্যক্রমমূলক অনেক লাইভ ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠান করেছে। অর্থ সংগ্রহের দিক দিয়েও অনেক ভালো পারফমেন্স ছিলো বাংলা টিভি কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে চ্যানেলটি একমাত্র এনআরবি চ্যানেল হিসেবে বাংলাদেশে সম্প্রচার অব্যাহত রেখেছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close