ফিচার

মনোয়ার হোসাইন বদরুদ্দোজার অসুস্থ: বন্ধুর সুস্থতা দোয়া কামনা

সাঈদ চৌধুরী: মানবাধিকার সংগঠক মনোয়ার হোসাইন বদরুদ্দোজার শারিরিক অবস্থার অবনতির সংবাদে খুবই বিষন্ন বোধ করছি। আমি কেন জানি এতো বেশি কষ্ট অনুভব করছি, কাউকে বুঝাতে পারবো না। কি এক আশ্চর্য ঘোরে ভিতরটা অস্থির হয়ে গেছে। এর আগে কোন বন্ধুর জন্য মনের মাঝে এতটা অস্থিরতা অনুভব করিনি। বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে তাকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ না পেয়ে মনটা আরো বেশি কাতর হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশি যে ক’জন সত্যিকারের মানবাধিকার কর্মী দেশে-বিদেশে কাজ করছেন তার মাঝে মনোয়ার হোসাইন বদরুদ্দোজা কিছুটা ব্যতিক্রমী মানুষ। গত ত্রিশ বছর থেকে তার সেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে আমি ঘনিষ্ট ভাবে পরিচিত।

বর্ণবাদ বিরোধী প্রায় সকল ইস্যুতে তিনি সোচ্চার। মুসলিম দুনিয়ার যে কোন সমস্যায় তিনি কাতরান। একজন মানবাধিকার রক্ষী বা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার হিসাবে তার কার্যক্রম বাংলাদেশ ও বিলেতের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকতা লাভ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের নীতি নির্ধারকদের সাথে তার সখ্যতা মুসলিম দুনিয়াকে নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার একটি বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে। এমতাবস্তায় তার শারিরিক অবস্থার অবনতির সংবাদ মনটাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

মনোয়ার হোসাইন বদরুদ্দোজা একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক। সংলাপ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফ্রন্ট সহ বিভিন্ সংগঠনের সাথে রয়েছে তার সরব পদচারনা। ইংরেজিতে ভালো দখল থাকায় আন্তর্জাতিক সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেন। সভা সমাবেশে মননশীল তত্ব ও তথ্য উপস্থাপন করেন। তার গবেষনা সমৃদ্ধ কথামালায় পান্ডিত্য এবং সমস্যা মোকাবেলায় সমধানের দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। তিনি মানব সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করেন।সামগ্রীক কার্মকান্ড পরিচালনায় উদার নৈতিক মানসিকতা লালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক দলের প্রতি কখনো পক্ষপাতিত্ব করেননি।ইসরাইলী বর্বরতা নিয়ে যেমন সরব, তেমনি বাংলাদেশ সহ এশিয়ার বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির অধিকার নিয়েও কথা বলেন। সীমান্তে বিএসএফের নির্বিচার গুলিবর্ষনে আহত ও নিহতদের বিষয়েও তিনি সদা সোচ্চার। দেশে বিদেশে তার এসব কাজ প্রশংসিত হয়েছে। জাতিয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে মানবাধিকারের বিষয়গুলো তিনি দৃঢ় ভাবে তুলে ধরেন।

ইন্টারন্যাশনাল কাভিনান্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস্ (International covenant on civil and Political Rights) এর আর্টিকেল-৬ এ উল্লেখ আছে যে, প্রত্যেকের বাঁচার অধিকার আছে এবং সেই অধিকার আইনের দ্বারা সংরক্ষিত। অধিকন্তু কেউ তার বেঁচে থাকার অধিকার থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হবেন না (সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনা, ১৯৪৮-এর আর্টিকেল-৩)। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ১৯৮৯/৬৫ রেজুলেশন অনুসারে ‘বেআইনি ও অন্যায় হত্যা এবং আকষ্মিক হত্যার কার্যকরি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সরকারের দায় দায়িত্ব সুনিশ্চিত হয়’। এ বিষয়ে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনার অর্টিকেল-৫ এ ব্যাক্তির মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো মানুষের প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অমর্যাদাকর ব্যবহার বা নির্যাতন করা যাবেনা’। উক্ত চুক্তির ধারা-২ এর ৩-(ক) উপধারায় বলা হয়েছে ‘যদি কোনো চুক্তিতে বর্নিত অধিকার এবং স্বাধিনতা সমূহ লঙ্ঘিত হয়, তবে তার প্রয়োজনীয় প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে, যদিও উক্ত লঙ্ঘন সরকারী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির দারা সংগঠিত হয়’।

এসবই মনোয়ার হোসাইন বদরুদ্দোজার প্রাত্যহিক আলোচনার বিষয় বস্তু এবং এর বাস্তবায়নে তিনি সদা সচেষ্ট। তিনি মনে করেন, মানুষ হিসাবে সকলের বিচার চাওয়ার ও পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একজন খুনি দন্ডযোগ্য আসামীকে বিনা বিচারে খুন করা দন্ডযোগ্য আরেকটি খুনেরই নামান্তর।এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ আন্তজাতিক বিভিন্ন ফোরামে তিনি বুদ্ধি ভিত্তিক কন্ট্রিবিউটর। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনারে তিনি অংশ নেন। সেখানে তার গুরু গম্ভীর বক্তৃতা সবাই হাততালি দিয়ে সমর্থন জানায়। খুব অল্প দিনেেই তিনি মূল ধারায় যেতে সক্ষম হয়েছেন।

মহান আল্লাহর কাছে তার মঙ্গল ও রোগমুক্তি কামনা করছি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close