আমাদের কমিউনিটিএডিটর্স পিকসখবরমানবিক কার্যক্রম/ চ্যারিটিস্কটল্যান্ড

স্কটল্যান্ডে গ্রামীণ ব্যাংকের মাইক্রোক্রেডিট পোগ্রাম দেউলিয়া ঘোষিত

মিজান রহমান:(২৪শে ডিসেম্বর ২০১৮, এডিনবরা)
গ্রাহকদের কাছে ৩০০ হাজার পাউন্ড ঋণ অনাদায়ী থাকায় স্কটল্যান্ডে দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে গ্রামীণ স্কটল্যান্ড ফাউন্ডেশনের ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসুচী। এর ফলে সংস্থার ৪ কর্মচারী চাকুরী হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। গ্রামীণ স্কটল্যান্ডের ওয়েবসাইটি ও বর্তমানে চালু নেই।
গত ১৯শে ডিসেম্বর প্রকাশিত এক পাবলিক নোটিশে (নং জিএল ১৪০১১৩১) জানা যায় গত ১৪ ই ডিসেম্বর তারিখে গ্লাসগো শেরিফ কোর্টে ইনসলভেন্সি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গ্রামীন স্কটল্যান্ড ফাউন্ডেশন কে দেওলিয়া ঘোষনা করে। সংস্থার এর বোর্ড মেম্বারগণ এর পক্ষ থেকে আবেদন জমা দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি হিসাবে আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন গ্লাসগো ক্যালিডোনিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর পামেলা অ্যান জিলিস । এই কোম্পানীর ৬ জন ডাইরেক্টর দের মধ্যে ড. ইউনুস ও ছিলেন। দেউলিয়া আইন অনুযায়ী অস্থায়ী ভাবে অফিসিয়েল রিসিভার হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন ফ্রেঞ্চ ডানকান এলএলপি ল ফার্মের প্রতিনিধি ব্রায়ান উইলিয়াম মিলনে। উক্ত কোম্পানী যে কোন ধরনের দায়-দেনা সংক্রান্ত ব্যাপারে উক্ত এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ফাউন্ডেশন (স্কটল্যান্ড) ২০১২ সালে গ্লাসগোর দরিদ্রপীড়িত এলাকায় চালু করে মাইক্রোক্রেডিট কর্মসুচী। যাদের ব্যাংক বা অন্যান্য অর্থ বিনিয়োগ কারী প্রতিষ্টান থেকে কোন ধরনের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা নেই তাদেরকে উপকারভোগী হিসাবে নির্বাচন করে চালু হয় ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসুচী বা সামাজিক ব্যাবসা ।

২০০৬ সালের দিকে স্কটল্যান্ডে কিভাবে দারিদ্র বিমোচন করা যায় সে লক্ষ্যে পরামর্শ চেয়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনসু কে আমন্ত্রন জানায় স্কটিশ পার্লামেন্ট। এরই ধারাবাহিকাতায় ২০০৮ সালে গ্লাসগো ক্যালিডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি কতৃক প্রফেসর ইউনুস কে দেয়া হয় সম্মানসুচক ডিলিট ডিগ্রী। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের অংশগ্রহনে গ্লাসগো ক্যালিডোনিয়ান ইউনিভার্সিটিতে এসংক্রান্ত একটি গবেষনা অনুষদ গঠিত হয় ২০১০ সালের দিকে।

২০১১ সালে “গ্রামীণ স্কটল্যান্ড ফাউন্ডেশন’’ নামে একটি চ্যারিটি সংস্থা স্কটল্যান্ডে রেজিষ্টার করা হয় যার নাম্বার হচ্ছে এসসি ০৪২৭৬৬। অতঃপর ব্যাপক প্রত্যাশা নিয়ে ২০১২ সাল থেকে স্কট্ল্যান্ডে পরীক্ষামুলক ভাবে চালু হয় মাইক্রোক্রেডিট। তখন থেকেই প্রফেসর ড. ইউনুস গ্লাসগো ক্যালিডোনিয়ান ইউনিভার্সিটির ইমিরেটাস চ্যান্সেলর হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন।
গ্লাসগো শহরের দারিদ্রপীড়িত এলাকায় চালু হওয়া ক্ষুদ্রঋণ কর্মসুচী সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ বা সামাজিক ব্যাবসা হিসাবে এই আইডিয়া টি সবার নজর কাড়ে। এ জাতীয় সামাজিক প্রকল্পের সহায়তায় এগিয়ে আসেন অনেকেই। স্কটিশ সরকার দেয় ১০০ হাজার পাউন্ড গ্রান্ট, বিশিষ্ট স্কটিশ ব্যাবসায়ী গ্র“প স্টেইজকোচ বা মেগাবাস এর মালিক দান করেন ১০০ হাজার পাউন্ড এবং টেসকো ব্যাংক থেকে লোন নেয়া হয় ৫০০ হাজার পাউন্ড।

সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, মাইক্রোক্রেডিট কর্মসুচীর আওতায় স্কটল্যান্ডে মোট ১০০০ গ্রাহক ঋণ নিয়েছিলেন। গ্রাহকরা নানাভাবে আর্থিক সঙ্কটে পড়লে নিয়মিত ঋনের কিস্তি দিতে ব্যার্থ হন। এর ফলে সংস্থাটির অনাদায়ী ঋনের পরিমান বেড়ে গিয়ে দাড়ায় ৩০০ হাজার পাউন্ডে। যার ফলে দেওলিয়া ঘোষনা করাটাই মোক্ষম উপায় ছিল।

ব্রিটেনের ব্যাবসা ও আর্থিক ব্যাবস্থায় কোন প্রতিষ্ঠান এভাবে দেওলিয়া হয়ে পড়াটা একটি স্বাভাবিক আইনানুগত প্রক্রিয়া। স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির কেউ কেউ এ সংবাদটি জেনে দু:খ প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ থেকে স্কটল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট সম্পুর্ন ভিন্ন তাই দেশের আদলে কোন পদ্ধতি এখানে কাজ না করাটাই স্বাভাবিক। অর্থাভাব হচ্ছে দারিদ্রের একটি ফলাফল বা প্রভাব তাই শুধু মাত্র অর্থ দিয়ে প্রকৃত পক্ষে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব নয়। প্রথমে দারিদ্রের প্রকৃত কারণ নিরুপন করাটাই জরুরী।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close