ফিচার

কেমুসাস স্মৃতি : আশৈশব পরিচিত প্রাঙ্গন!

শাহেদ শাহরিয়ার : (কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) এর সাপ্তাহিক সাহিত্য আসরের শুরুর দিনগুলোর (১৯৯৫-‘৯৭) স্মৃতি চারণ।)

কেমুসাসে আগেও গিয়েছি। অপরিচিত কোন জায়গা ছিলো না! কেমুসাসের প্রাঙ্গন আশৈশব চেনাজানা!

স্কুলে থাকতেই আব্বা পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসের লাগোয়া সিলেট পৌর পাঠাগার, নয়াসড়কস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিংবা দরগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাথে! পশ্চিম কাজীর বাজারে মাখন ভাইয়ের পুরোনো বইয়ের দোকানটির সাথেও আব্বা একেবারে হাতে ধরে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ফেরিওয়ালারা সংগৃহিত বই-পত্রপত্রিকা মাখন ভাইয়ের কাছে এনে বিক্রি করতো। বইপোকারা বইয়ের সেই ছাইপাশ উড়িয়ে দেখে নিতো এবং পেয়েও যেতো কোনো না কোনো মানিক রতন!

যাইহোক, স্কুল লাইফে অবসর সময়ে বই পড়তে যেতাম কেমুসাসে। এছাড়াও একতলা এই বিল্ডিংটার দক্ষিণাংশের শহীদ সোলেমান হলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবার সুযোগ হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একজন প্রতিযোগী হিসেবে নিজেও একাধিকবার পুরস্কার গ্রহণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের ছবিসংগ্রহ নিয়ে বিখ্যাত চিত্রসাংবাদিক রশীদ তালুকদারের (মরহুম) বিরল চিত্রপ্রদর্শনী যেদিন হলো, উনার পিছুপিছু পুরোটা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেছি, তাঁর নিজের মুখে ছবির গল্পগুলো জেনে নেবার সৌভাগ্য হয়েছিলো!

কেমুসাস পাঠকক্ষে বসলে খুবই রাশভারী একজন মানুষকে দাপ্তরিক কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতে দেখতাম! তিনি ছিলেন শ্রদ্ধেয় মনির উদ্দীন চৌধুরী, কেমুসাস লাইব্রেরিয়ান (মরহুম)। একবার কয়েকটা বই নামিয়ে নিয়েছিলাম একসাথে, (যদ্দূর মনে পড়ে) মাওলানা আকরাম খাঁর মোস্তফা চরিত বইটি টেবিলে যখন নামালাম – তিনি এসে এক গাদা প্রশ্ন আমাকে করে বসেছিলেন! চোখেমুখে সন্দেহ! ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম!

প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মা’ল আব্দুল মুহিত সাহেবকে দেখতাম একপাশে বসে ক্রমাগত লিখে যাচ্ছেন! তখনো তিনি মন্ত্রী হন নি। কোন কলাম কিংবা বই হয়তো তিনি লিখছিলেন, কেমুসাসের সমুদ্রসম সংগ্রহ তাঁর লেখার খোরাক যোগাতো।

(চলবে……..)

১৩.০১.২০১৯
শিবগঞ্জ, সিলেট।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
Close