খেলাধুলা

নাদিফের ব্যাটিংয়ে বিস্মিত মাশরাফি

পুরো টুর্নামেন্টে নাদিফ চৌধুরী ছিলেন আড়ালে। বারবার ব্যর্থ হয়েও সুযোগ পাচ্ছিলেন মেহেদী মারুফ। শেষমেশ নাদিফকে নামানো হলো ডু অর ডাই ম্যাচে। এমন ম্যাচ যেখানে হারলেই দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়!

বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে ছিল উদ্বোধনী জুটি। ক্রিস গেইল অফ ফর্মে। অপরপ্রান্তে যারাই এসেছে টিকতে পারেননি। কোনো উপায় না দেখে নাদিফকে নিয়ে কোচ টম মুডি ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ঝুঁকি নিলেন। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে নামানো হলো দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে।

২২ গজে নেমেই রুদ্ধমূর্তি ধারণ করে ঢাকা শিবির কাঁপিয়ে তোলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ক্রিস গেইলকে দর্শক বানিয়ে ঢাকার বোলারদের কড়া শাসন করেন। রুবেলকে ওভার দ্য টপে চার মেরে শুরু। এরপর আন্দ্রে রাসেলকে পুল করে চার। শুভাগত হোমকে পরপর তিন বলে তিন ছক্কা! ড্রেসিং রুমে বসে হাতে তালি মাশরাফির। ড্রেসিং রুমের বাইরে মুচকি হাসি টম মুডির।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে মাশরাফিদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে খেলেছিলেন নাদিফ। রান করেছিলেন মাত্র ১০। এরপর আরো দুই টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ১৭। সব মিলিয়ে তিন টি-টোয়েন্টিতে ২৭ রান। আজ রংপুরের জার্সিতে ওই রানেই আটকা পড়েন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১২ বলে তার ২৭ রানের ঝড়ে রংপুর রাইডার্স উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল। কিন্তু তার বিদায়ের পর ব্যাকগিয়ারে যাওয়া শুরু রংপুরের। টানা তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারিয়ে বসে শিরোপাধারীরা।

দিন শেষে মাশরাফি, মুডি কিংবা নাদিফের মুখের হাসি টেকেনি। ঢাকার কাছে ৫ উইকেটের হারে ফাইনালের টিকিট পাওয়া হয়নি রংপুরের। কিন্তু নাদিফের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ মাশরাফি। ৩১ বছর বয়সি ক্রিকেটারের প্রশংসা করলেন ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে।

‘আজ আমাদের শুরুটা কিন্তু নাদিফ করেছে। কৃতিত্ব অবশ্যই নাদিফকে দেওয়া উচিত। নাদিফকে দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছি। রুবেলকে ওভার দ্য টপ খেলা, রাসেলকে পুল করা…অফ স্পিনে যেভাবে অ্যাটাক করেছে। খুবই ভালো লেগেছে যে একজন ব্যাটসম্যান পুরো টুর্নামেন্টে খেলেনি কিন্তু আজ এরকম ব্যাটিং করেছে। অনেকেই চিন্তা করতে পারে যে নাদিফের বয়স হয়েছে, আমাদের কাছাকাছি। কিন্তু এটা ইতিবাচক যে এভাবে ও খেলছে। এভাবে খেলতে থাকলে হয়তো বা আরো অনেক দিন খেলতে পারবে টপ লেভেলে।’

নাদিফ শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। শুভাগতকে পরপর তিন বলে ছক্কা মারার পরও ছটফট করেছেন। ভুল করেন ওভারের শেষ বলে। স্লগ সুইপ করে ক্যাচ দেন ডিপ মিড উইকেটে। ওভারে ১৮ রান তোলার পর ওভাবে নিজের উইকেট বিসর্জন দেওয়া থেকে তাকে শেখার তাগিদ মাশরাফির।

‘হয়তো বা ও (নাদিফ) ওখানে যেটা করতে পারতো, এক নিয়ে পরের ওভারে খেলাটা আরো বড় করতে পারত। এখানে আমাদের ব্যাটসম্যান আর বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে চিন্তাভাবনার পার্থক্য। অনেক বড় খেলোয়াড় এগুলো করে। এখান থেকে আমাদেরই শিখতে হবে যে কীভাবে খেলা বড় করা যায়।’

বিপিএলে গতবার ঢাকার হয়ে খেলেছেন নাদিফ। পাক্কা এক বছর পর আবার টি-টোয়েন্টিতে ফিরে যে ব্যাটিং ঝলক দেখিয়েছেন, তাতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে ঠিকই কিন্তু আক্ষেপও বাড়িয়েছেন। আজ তার হাতেই ছিল রংপুরের ম্যাচের নাটাই। চাইলেই ইনিংস বড় করে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য দেখাতে পারতেন বড় মঞ্চে। রাইজিংবিডি

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close