সোনার বাংলাদেশ

শিশু হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদন্ড

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদন্ড হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম গতকাল বুধবার এ রায় দেন।
মুত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে-স্থানীয় মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন, রফিকুর রহমান, জাহেদ ও সালেহ আহমদ। আসামীদের মধ্যে কেবল সালেহ পলাতক রয়েছে। বাকিরা কারাগারে রয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্র্যাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) এডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, আদালত আসামীদের দন্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদন্ডাদেশের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। এছাড়া, ২০১ ধারায় তাদের প্রত্যেককে তিন বছরের কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। আলোচিত এই মামলায় হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল আমিন ও সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহা, ডাক্তার, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নিহতের মা বাবাসহ ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন বলে পিপি। তিনি জানান, গত ২৪ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুরু হয়। এরপর বুধবার ঘোষণা করা হলো মামলার রায়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী প্রবাস ফেরত জহুর আলী।
ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে। ৮ এপ্রিল মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী স্থানীয় মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে এবং জড়িতদের গ্রেফতার করে পুলিশ। অপহরণ ও মামলা দায়েরের প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযুক্তদের মধ্যে ৩ জনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেন আদালত। অপর চার আসামীর মধ্যে বাতির কান্দি গ্রামের সালেহ আহমদ ছাড়া রফিক, জায়েদ ও উপজেলা ব্রাহ্মণ জুলিয়া গ্রামের সুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close