খেলাধুলা

কোয়াটার ফাইনালে উঠলো জুভেন্টাস

শেষ আটে উঠার লড়াইয়ে জুভেন্টাসের ঘরের মাঠে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হ্যাট্রিক গোলে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে কোয়াটার ফাইনালে উঠলো জুভেন্টাস। ম্যাচের প্রথমভাগে দারুণ এক হেডে পথ দেখালেন রোনালদো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাড়ালেন আশা আর শেষ দিকে গড়ে দিলেন ব্যবধান। পর্তুগিজ তারকার অসাধারণ এক হ্যাটট্রিকে আতলেতিকো হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকেট পেল জুভেন্টাস।

মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে ৩-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পরের রাউন্ডে উঠলো ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছিল স্পেনের দলটি।

পুরো ম্যাচে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করা জুভেন্টাস গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৬টি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ঘর সামলাতে ব্যস্ত আতলেতিকো পাঁচটি শট নিলেও তার একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া জুভেন্টাস জর্জো কিয়েল্লিনি ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই জটলার মধ্যে বল পেয়ে জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে শট নিতে গিয়ে রোনালদোর পা গোলরক্ষকের হাতে আঘাত করলে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি।

একচেটিয়া চাপ ধরে রাখা জুভেন্টাসকে ২৭তম মিনিটে এগিয়ে দেন রোনালদো। বাঁ দিক থেকে ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির দূরের পোস্টে বাড়ানো ক্রসে লাফিয়ে নেওয়া হেডে বল জালে পাঠান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

৩১তম মিনিটে ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড বের্নারদেস্কির ফ্রি-কিকে বল ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় অতিথিরা। খানিক পর তার বাইসাইকেল কিকও হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। বিরতির ঠিক আগে রোনালদোর হেডও পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে আরেকটি দারুণ হেডে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। তার লাফিয়ে নেওয়া হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়েছিলেন ইয়ান ওবলাক; কিন্তু তার আগেই বল গোললাইন পেরিয়ে যায়। গোললাইন প্রযুক্তির সাহায্যে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন হয় ২-২।

নির্ধারিত সময় শেষের ১০ মিনিট আগে মানজুকিচকে বসিয়ে মোইজে কিনকে নামান আল্লেগ্রি। মাঠে নামার দুই মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের ভুলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ ইতালিয়ান এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু তার কোনাকুনি শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

তবে খানিক পরেই দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান রোনালদো। ৮৬তম মিনিটে সফল স্পট কিকে হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি পার্থক্য গড়ে দেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা বের্নারদেস্কিকে পেছন থেকে আনহেল কোররেয়া ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টিটি পায় জুভেন্টাস।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরে এই নিয়ে চার গোল করলেন রোনালদো। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তার মোট গোল হলো ১২৪। আর আতলেতিকোর বিপক্ষে এই নিয়ে ৩২ ম্যাচে ২৫টি গোল করলেন রোনালদো। আগের ২২টি করেছিলেন সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে।
ফিলিপ্পো ইনজাগি ও আলেস্সান্দ্রো দেল পিয়েরোর পর জুভেন্টাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close