ইংল্যান্ডএডিটর্স পিকসখবরটপ স্টোরিজ

ব্রেক্সিট প্রস্তাব আবারো প্রত্যাখ্যান করলেন ব্রিটিশ এমপিরা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ২য় বারের মতো নাকচ করে দিলেন ব্রিটিশ এমপিরা। লন্ডন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টা) ২৪২-৩৯১ ভোটে হেরে যায় ইউরোপিয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা থেরেসার চুক্তি। ভোটের পার্থক্য সুবিশাল ১৪৯টি! ফলে এক অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়ালো যুক্তরাজ্য। তবে ব্রেক্সিট চুক্তিহীন হবে কিনা সেই বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত নেবেন এমপিরা। আর থেরেসা মে নিজেও চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। বিবিসি, গার্ডিয়ান, সিএনএন, গার্ডিয়ান।

এর আগে গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে থেরেসার প্রথম চেষ্টা চরম ব্যর্থ হয়েছিলো। যে ব্যবধানে তার চুক্তিটি তখন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, তার উদাহরণ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নেই। তার নিজের রক্ষণশীল দলেরই ১১৮জন এমপি ঐ চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তারপর গত কয়েক সপ্তাহ ইইউ নেতাদের সঙ্গে নতুন দেন-দরবার করে কিছুটা পরিবর্তিত আকারে চুক্তিটি আবারও পার্লামেন্টে আনেন প্রধানমন্ত্রী মে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের পর উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে অবাধে পণ্য এবং মানুষের যাতায়াত অব্যাহত রাখা নিয়ে যে আপত্তি অনেকে করছিলেন, সেখানে ইইউ থেকে তিনি কিছু ছাড় পেয়েছেন। বলা হচ্ছিলো, এই দুই ভূখ-ের মধ্যে অবাধ যাতায়াত হবে সাময়িক। তবে এই কথায় আস্থা রাখেননি ব্রিটিশ এমপিরা।

ভোটে হেরেই পার্লামেন্ট বক্তৃতায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন থেরেসা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আজ তিনি চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিতে যাচ্ছেন। এই বক্তব্যের ফলে এই ২য় ব্রিটিশ ‘লৌহমানবীর’ জেদ আবারও প্রকাশিত হলো। তিনি অবশ্য নিজেই বলেছেন, চুক্তি ছাড়া ইউরোপ ত্যাগে যুক্তরাজ্যের বড় ধরণের ক্ষতি হবে। তবুও তিনি চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিতে হাউজ অব কমন্সের প্রতি আহ্বান জানান। এরপরে বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি করবিন আবারো সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানান। করবিন বলেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হবে অর্থহীন।
ভোটাভুটির আগে, পার্লামেন্টে বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি করবিন সাফ জানিয়ে দেন, তার দল এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। আবারও তিনি পরিস্কারভাবে ২য় গণভোটের দাবি তুলেছেন।

এদিকে থেরেসা মে’র অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন আবারও জানিয়েছেন, তিনি চান, যুক্তরাজ্য কোন চুক্তি ছাড়াই ইউরোপিয় ইউনিয়ন ত্যাগ করুক। তিনি মনে করেন, এই সমস্যার একমাত্র নিরাপদ সমাধান হলো চুক্তিহীন ব্রেক্সিট। ব্রিটিশ এমপিরা এখন কী সিদ্ধান্ত নেবেন দেখার বিষয় সেটাই।
এর আগে থেরেসার করা ব্রেক্সিট চুক্তিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন ব্রিটিশ অ্যাটর্নি জেনারেল জিওফ্রে কক্স। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটির আগে হাউজ অব কমন্সে বক্তব্য রাখেন কক্স। তিনি বলেছেন, ইউরোপিয় কমিশনের চেয়ারম্যান জুয়ান ক্লাউদে জাঙ্কার এর করা এই চুক্তিটিতে আন্তর্জাতিক মানদ- উপেক্ষা করে ব্যাকস্টপ এর ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

এই চুক্তি পাশ হলে ২৯ মার্চ হতো ব্রেক্সিট। এটি যদি পাশ না হওয়ায়, ১৩ মার্চ আরো একটি ভোট হবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে। এটি পাশ হলেও ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট হবে। আর পাশ না হলে ১৪ মার্চ ৫০ অনুচ্ছেদের সময়সীমা বর্ধিত করার বিষয়ে একটি ভোট। এটি যদি পাশ না হয়, তবে তৈরী হবে সত্যিকারের বড় ধরণের অচলাবস্থা। যার সমাধান কিভাবে হবে এখনও জানা নেই। আর পাশ হলে ২১ তারিখের বিশেষ সম্মেলনে ব্রাসেলস-এ এই প্রস্তাব উঠবে। আর পাশ না হলে তৈরী হবে অচলাবস্থা। আর পাশ হলে ব্রেক্সিট পেছাবে। আর যদি ইউরোপিয় নেতারা স্বল্প মেয়াদের বর্ধিত সময়সীমায় রাজি না হয়ে দীর্ঘমেয়াদী মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হন তবে হাউজ অব কমন্সে তা ফিরে যাবে। এটি পাশ হলে দীর্ঘমেয়াদে পেছাবে ব্রেক্সিট। আর যদি পাশ না হয়, বড় ধরণের আইনি এবং রাষ্ট্রীয় অচলাবস্থা তৈরী হবে।

যে অচলাবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তার সমাধানের বেশ কিছু পথ তৈরী হবে। ফলে হতে পারে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট, দ্বিতীয় গণভোট, নতুন পরিকল্পনা অথবা মে’র চুক্তিতে তৃতীয় বার ভোট হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা প্রায় শূণ্য।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close