ইংল্যান্ডএডিটর্স পিকসখবরটপ স্টোরিজ

ব্রেক্সিট পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিকরা হতাশ

বেক্সিট ইস্যু নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার তেমন কোনো আগ্রহ নেই ইউরোপিও ইউনিয়নের। ব্রিটিশ নাগরিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন যে ব্রেক্সিট ইস্যুতে কেন কোনো সুরাহা করতে পারছে না ব্রিটিশ সংসদ। বেক্সিট প্রশ্নে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে’র খসড়া চুক্তি দ্বিতীয় বারের মতো নাকচ করে দিয়েছে ব্রিটিশ সংসদ। কোন ধরণের চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ব্রিটিশ এমপিরা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে ৩১২জন সংসদ সদস্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, আর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩০৮জন। তবে এই ভোটের ফলাফল সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি এখানে নাকচ করা হয়নি। কিন্তু বুধবারের এই ভোটাভুটির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আরো সময় নেয়া হবে কিনা, তা নিয়ে আরেকটি ভোটাভুটি হতে পারে।

ব্রিটিশ নাগরিকরা দিনের পর দিন ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে আর শঙ্কায় থাকতে চাচ্ছেন না। তাদের ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে চাকরি, সবকিছুর ওপর এক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে এই ব্রেক্সিট। মার্চ মাসের ২৯ তারিখের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাবার কথা রয়েছে। এর ওপর ব্রিটিশ নাগরিকদের অনেক বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটেন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে গেছে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে। বোয়িংসহ বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় রাশ টেনে ধরায় ব্যবসা বাণিজ্যে এক সংকটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কাজের ক্ষেত্রে। ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসিরা এ উদ্বেগের বাইরে নয়। এখন বেক্সিট প্রশ্নে বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হবে। সেখানে যদি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাতে সম্মত হয়, তাহলে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ মার্চের মধ্যে আর যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে হবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে গেলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ব্রিটেন একটি সুবিধাজনক চুক্তি করতে চাইছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলো কী ধরনের সুবিধা পাবে – সেটিও একটি বিষয়। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি খসড়া চুক্তি করেছিলেন, যা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট জানুয়ারি মাসের এক ভোটাভুটিতে বাতিল করে দিয়েছিল। এর আগে মঙ্গলবার আরেকটি ভোটাভুটিতে ব্রেক্সিটের জন্য টেরেসা মে’র খসড়া চুক্তিটি দ্বিতীয় বারের তো বাতিল করে দেয় ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।

প্রথমবার যে ব্যবধানে তার চুক্তিটি তখন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, তার নজির ব্রিটিশ সংসদে নেই। তার নিজের রক্ষণশীল দলেরই ১১৮জন এমপি ঐ চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তারপর গত কয়েক সপ্তাহ ইইউ নেতাদের সাথে নতুন দেন-দরবার করে কিছুটা পরিবর্তিত আকারে চুক্তিটি আবার সংসদে এনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মে। যুক্তরাজ্য কিভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে, তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। ৪০ বছরের বেশি সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩শে জুন একটি গণভোট নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেখানে সেদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল – যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকা উচিত নাকি উচিত না?

সেই গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে,আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সাথে সাথেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। এই বিচ্ছেদ ঘটার কথা রয়েছে আগামী ২৯শে মার্চ।  আমাদেরসময়.কম

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close