ফিচার

কবিতা

সম্রাট তারেক:

বাহ.!
চমৎকার লিখার হাত তোমার। কাব্য প্রতিভাকে ভবিষ্যতে কাজে লাগাবে। আমি খুব খুশি হয়েছি।

আহমেদের উদ্দেশ্য কথাগুলো বলছিলেন তার জীববিজ্ঞানের ম্যাডাম সোনিয়া জাহান। এই কবিতা আহমেদের জীবনের প্রথম কবিতা। প্রথম কবিতাই লিখেছে তার ম্যাডামকে নিয়ে। আইডিয়াটা আহমেদের বন্ধু অর্ভির। তারা দুজন বেশ ভালো বন্ধু।

আহমেদ কবিতা লিখতে পারে এই তথ্য আহমেদের আগেও বুঝতে পেরেছিল অর্ভি। আহমেদ প্রায়শ অর্ভির খাতায় আনমনে দুই-এক লাইন লিখতো।এই লাইনগুলো দেখে অর্ভি বুঝতে পারে আহমেদের ভেতর কবিতা আছে। অর্ভি বেশ কয়েকদিন বুঝালো কিন্তু আহমেদ মানতে নারাজ। সে কোনভাবেই বিশ্বাস করে না, তার জন্ম কবিতার জন্যে।

আজ সকালে কলেজ আসার পথে অর্ভি আহমেদকে কঠিন কন্ঠে বলে, ” তুই যদি কবিতা না লিখোস, তাহলে আমাদের বন্ধুত্ব এইখানে শেষ। ”
বন্ধুত্ব নষ্ট হবার এই রকম বোকা আবদারে আহমেদ বেশ খানিকটা বিস্মিত হলো। অর্ভির পাগলামিতে সে রীতিমতো বিরক্ত। তবে মনে প্রগাঢ় বিশ্বাস ছিল, তারা উভয়ই পরস্পরকে ছাড়া বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। কাজেই অর্ভির কথা সত্য হবে না। আহমেদের ধারণা মিথ্যে হলো,সত্য হলো অর্ভির জেদ।বন্ধ হলো কথা।

পরদিন ক্লাসে আহমেদ আবারো বুঝাতে শুরু করলো অর্ভিকে। দেখ বন্ধু আমি যে জিনিসটা জানি না, তা কিভাবে করবো?
জবাবে অর্ভি বললো, চেষ্টা তো করতে পারোস।

আহমেদ বললো, বেশ চেষ্টা করছি আমি। তার আগে বল, কি নিয়ে লিখবো? অর্ভির মুখে পুরনো হাসি ফিরে আসলো। সে বলতে শুরু করে, এই যে ম্যাডাম পড়াচ্ছেন এটা নিয়েই তো কবিতা হয়। ম্যাডামের হাসি, শাড়ি, বেঞ্চ, দেয়াল, জানালার আকাশ, তমার জুতা, মাহমুদের ময়লা শার্ট, সবকিছু নিয়েই কবিতা হয়। আহমেদ লিখতে শুরু করলো। সম্পূর্ণ শেষ হবার আগেই কবিতা ম্যাডামের হাতে। মাধ্যম অর্ভি।

৫ বছর পর…
আহমেদ ও কবিতা
প্রস্বেদনে সুতার বাঁধন। কবিতার সাথে তার দারুণ সখ্য।প্রায়শ দৈনিক পত্রিকায় তার কবিতা ছাপা হয়। কবিতার জন্য স্নেহ পায়, শ্রদ্ধা পায়, প্রেমিকাও পায়। এতোকিছুর পরও আহমেদের মন পড়ে থাকে সে দিনের সোনালী স্মৃতিতে। সে প্রায়শ ভাবে –
৫ ফুট ৭ ইঞ্চির সবাই অর্ভি হয় না। ৬৪ কেজি ওজনের সবাই অর্ভি হয় না। তবে সব অর্ভিরাই আপন পাগলামি দিয়ে নতুন পথ সৃষ্টি করতে পারে। ঠিক কবিতার মতো।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
Close