ইংল্যান্ডএডিটর্স পিকসখবরটপ স্টোরিজ

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দু:খ প্রকাশ করলেন থেরেসা

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ১০০ বছর পর এই ঘটনার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দু:খপ্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ১৯১৯ সালের ১৩ আগস্ট ব্রিটিশ সৈনিকদের গুলিতে পাঞ্জাবের অমৃতসরে রাওলাট আইনের প্রতিবাদে জড়ো হওয়া ৩৭৯ থেকে ১৬০০ মানুষ নিহত হন। এনডিটিভি, দ্য হিন্দু।

এই ঘটনার জন্য দু:খপ্রকাশ করলেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষমা চাননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এই ঘটনার শততম বার্ষিকির ঠিক আগে পার্লঅমেন্টের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা যা হয়েছে তার জন্য গভীর দু:খ ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।’ বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন একটি পূর্ণ, পরিচ্ছন্ন এবং নিশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।

১৯১৩ সালে বৈশাখী উৎসবের প্রাক্কালে নাম না জানা হাজারো মানুষ উপনিবেশিক রাউলাট আইনের বিরুদ্ধে জালিয়ানওয়ালাবাগে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের উপর সেসময় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ব্রিটিশ সেনারা। অনেকে গুলি থেকে বাঁচতে পার্শবর্তী একটি কূয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই ঘটনায় ৪০০ জন নিহতের কথা ব্রিটিশরা স্বীকার করে। ভারতের দাবি সংখ্যঅটি ১৬০০।

এর আগে, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকা-কে ‘গভীর লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। তিনি আরো বলেন, এই নৃশংস হত্যাকা-ে হাজার হাজার ভারতবাসীকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার পর ভারতবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের কাছে ছিলো একটি বিতর্কের বিষয় ।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ২০১৩ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ পরিদর্শনে এসে এই হত্যা-কে ‘গভীর লজ্জাজনক’ ঘটনা বলে উল্লেখ করলেও ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত থাকেন। এই বিষয়ে ল-নে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের ইতিহাসের একটি লজ্জাজনক অধ্যায়। তাই আজ সময় এসেছে এই বর্বরোচিত হত্যাকা-ের জন্য দু:খ প্রকাশ করার। তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি এই বিষয়ে আলোচনা করা যথেষ্ট নয়।

আমি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে এই নৃশংস হত্যাকা-ের জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। তিনি বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের বলেছি জালিয়ানওয়ালাবাগে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এই হত্যাকা-ের শতবর্ষে ব্রিটেন সরকার প্রকাশ্যে এর দায় স্বীকার করবে। এর আগে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বব ব্লাকম্যান এই বিষয়ে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করেন। সেখানেও তিনি ব্রিটিশ সরকারকে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব করেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close