খেলাধুলা

ধুতি-পাঞ্জাবি পরেই ক্রিকেট

ভারতীয়দের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসাবে ধরা হয় ধুতি-পাঞ্জাবি বা ধুতি-কুর্তা। যেখানে ধুতি পরতে হিমশিম খেয়ে যান অনেককেই, অথচ এই পোশাক পরেই খেলা হচ্ছে ক্রিকেট ম্যাচ। যেনতেন ক্রিকেট নয়, রীতিমতো টুর্নামেন্ট! দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ধারাবিবরণী করা হয় সংস্কৃত ভাষাতে।

‘মাসাই ক্রিকেট ও্যারিয়র্স’ এর নাম শুনেছেন কখনো? ক্রিকেটটা যাদের কাছে সমাজ বদলের হাতিয়ার। কেনিয়া ও তাঞ্জানিয়ার সীমান্তে বসবাস করা আদিবাসী মাসাইয়ের মানুষ বিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠার পেছনের কারণটি ক্রিকেট। এই ক্রিকেটকে পুঁজি করেই এইডস, বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন আর লিঙ্গবৈষম্যের মতো সমস্যাকে অনেক দূর কাটিয়ে উঠেছে মাসাই উপজাতিরা।

তাদের ক্রিকেট দল আর দশটা দলের মতো নয়। মাসাইরা ক্রিকেট খেলার সময় পড়েন না জার্সি-ট্রাউজার। তবে প্যাড-গ্লাভস ব্যবহার করলেও তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই ক্রিকেট মাঠে দৌড়ঝাঁপ দেন। লাল রঙের একটুকরো কাপড় কোমরে পেঁচিয়ে তাতে জড়ানো হয় নানা অলঙ্কার। কোমরের বেল্টে থাকে শিকারের প্রতীক ছুরি। সে গল্প নাহয় অন্যদিন বলা যাবে।

মাসাই থেকে এবার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বারাণসীতে আসা যাক। ক্রিকেটটা তারাও নিয়েছেন সমাজ গঠনের হাতিয়ার হিসাবে। এক-আধ বছর নয়, শেষ দশ বছর ধরে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে আর খালি পায়ে খেলা হয় সংস্কৃত এই ক্রিকেট লিগ। এখানেই শেষ নয়, চমক আছে আরও। এখানে ধারাভাষ্য দেওয়া শুদ্ধ সংস্কৃত ভাষাতে।

সম্পূর্ণানন্দ সংস্কৃত বিদ্যালয়ের উদ্যগে বারণসীর পাঁচটি সংস্কৃত স্কুল এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দশ ওভারের ম্যাচে অংশ নেয়। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পবণ কুমার শাস্ত্রী বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। এই টুর্নামেন্ট সংস্কৃত ক্রিকেট লিগ নামেই পরিচিত। অন্যদিন ছেলেদের হাতে বই আর কলম থাকে। আজ ওদের হাতেই ব্যাট-বল। আমরা প্রতি বছর এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করি। এখানে সংস্কৃত ভাষাতেই ধারাভাষ্য দেওয়া হয়। এটাই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অভিনবত্ব।’ ক্রিকেট নাইন্টি সেভেন

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
Close