খেলাধুলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে দ্যা ভিলেজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বধ করেছে মাশরাফি মুর্তজার দল।
গতকাল সোমবার সৌম্য, মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটের দাপুটে জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড়ো সূচনা করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশেষ করে ওপেনার সুনিল এমব্রিস ছিলেন বেশি ভয়ংকর। অবশেষে ভয়ংকর হয়ে উঠা এই ওপেনারকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।
উদ্বোধনী জুটিতে এমব্রিস আর শাই হোপ তুলেন ৩৫ বলে ৩৭ রান। এমব্রিস ১৮ বলেই ৪ বাউন্ডারিতে করে ফেলেছিলেন ২৩ রান। ষষ্ঠ ওভারে এসে মাশরাফি তাকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়েছেন। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য।
এরপর ড্যারেন ব্রাভোকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩ বলে মাত্র ৬ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেটে রস্টন চেইসকে নিয়ে আবারও প্রতিরোধের চেষ্টা হোপের।
৩৩ রানের এই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। মিড উইকেটে ক্যাচটা প্রায় ছুটে যাচ্ছিল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় মাহমুদউল্লাহ সেটি তালুবন্দী করেন। ১৯ রান করেন চেইস।
ক্যারিবীয় ইনিংসে চতুর্থ আঘাতটিও হানেন মোস্তাফিজই। জোনাথান কার্টারকে ৩ রানে এলবিডব্লিউ করেন বাঁহাতি কাটার মাস্টার। ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মাঝে বাংলাদেশি বোলারদের বিপক্ষে রান তুলতে রীতিমত ঘাম ঝরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। টানা ১০৩ বল বাউন্ডারির দেখা পায়নি ক্যারিবীয়রা।
সৌম্য সরকারের করা ইনিংসের ৩০তম ওভারে এসে সেই খরা কাটান জেসন হোল্ডার। ওভারের চতুর্থ বলে একটি চার মারেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক আর পরের বলেও মারেন আরেক চার।
হোল্ডার আর হোপ মিলেই ক্যারিবীয়দের বড় লজ্জা থেকে বাঁচান। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ১০০ রানের জুটি। আরেকটি সেঞ্চুরির পথেই যাচ্ছিলেন হোপ। অবশেষে তাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান মাশরাফি। ১০৮ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৮৭ রান করেন এই ওপেনার।
সঙ্গী হারিয়ে হোল্ডারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একইভাবে মাশরাফির বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের কাছে ক্যাচ হন ৭৬ বলে ৬২ রানে থাকার সময়।
এরপর ফ্যাবিয়েন অ্যালেনকে (৭) এলবিডব্লিউ করেন সাকিব। অ্যাশলে নার্স (১৪) আর রেমন রেইফারকে (৭) দুর্দান্ত দুই ডেলিভারিতে ফেরান মোস্তাফিজ।
জবাবে রান তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে তুলে দেন ৫৪ রান। নবম ওভারে অ্যাশলে নার্সকে মারতে গিয়ে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তামিম। ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে ২১ রানে হয়ে যান বোল্ড।
দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবকে নিয়ে ৫২ রানের আরেকটি জুটি সৌম্যর। এরপরই জোড়া আঘাত, বোলার সেই নার্স। তিন বলের ব্যবধানে সেট দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখান ক্যারিবীয় স্পিনার।
সাকিবও তামিমের মতো বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন, শর্ট কভারে ধরা পড়েন রস্টন চেজের হাতে। ৩৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৯ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এক বল পর শর্ট মিডউইকেটে সুনিল এমব্রিসের ক্যাচ হন হাফ সেঞ্চুরিয়ান সৌম্য। ৬৭ বলে ৪ চার আর ২ ছক্কায় তখন ৫৪ রানে বাঁহাতি এই ওপেনার।
এরপর ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে রিভার্স সুইপ খেলে সিঙ্গেলের জন্য ছুটেছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। নন স্ট্রাইকে থাকা মুশফিকুর রহিম ‘না’ করায় নিজের প্রান্তে ফিরতে যান মিথুন। কিন্তু স্লিপ করে পড়ে যান উইকেটের মাঝে। রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু পয়েন্ট থেকে বলটা উইকেট কিপারের হাতে দিতে পারেননি অ্যাশলে নার্স। তার থ্রোয়ে বল চলে যায় উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে। বেঁচে যাওয়া মিথুন তখন ৭ রানে ব্যাট করছিলেন।
১০৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন মুশফিকুর রহীম আর মোহাম্মদ মিঠুন।
জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর একটু আগে ৬৩ রানে বিদায় নেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত সাব্বির-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ভর করেই ৫ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঃ ৫০ ওভারে ২৪৭/৯ (হোপ ৮৭, আমব্রিস ২৩, ব্রাভো ৬, চেইস ১৯, কার্টার ৩, হোল্ডার ৬২, অ্যালেন ৭, নার্স ১৪, রিফার ৭, কটরেল অপরাজিত ৮, রোচ অপরাজিত ৩। আবু জায়েদ ৯-১-৫৬-০, মাশরাফি ১০-০-৬০-৩, মিরাজ ১০-০-৪১-১, মুস্তাফিজ ৯-১-৪৩-৪, সাকিব ১০-১-২৭-১, সৌম্য ২-০-১৫-০)।
বাংলাদেশ ঃ ৪৭.২ ওভারে ২৪৮/৫ (তামিম ২১, সৌম্য ৫৪, সাকিব ২৯, মুশফিক ৬৩, মিঠুন ৪৩, মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৩০, সাব্বির অপরাজিত ০। রোচ ৬-০-৪৬-১, কটরেল ৯.৮-০-৩৮-০, নার্স ১০-০-৫৩-৩, চেইস ৬-০-২৪-০, অ্যালেন ৩-০-১১-০, হোল্ডার ৮-১-৪৩-১, রিফার ৫-০-৩১-০)।
ফল ঃ বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ ঃ মুস্তাফিজুর রহমান।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close