সোনার বাংলাদেশ

৬ লেনের এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হচ্ছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সড়ক – এম এ এম জাহেদী ক্যারল

দেশের অন্যতম ধনী এলাকা গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। বৃটিশ আমলের সেই দুই লেনের রাস্তা এখন ছয় লেনের রূপান্তিত হবে । মধ্যে বিভাজনে থাকবে সবুজ গাছের সারি। ৬ লেনের এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হচ্ছে প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে ৬ লেনের এ হাইওয়ে-টি।

৬ লেনের এ এশিয়ান হাইওয়েটি বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে শেওলা-চারখাই-গোলাপগঞ্জ হয়ে সিলেট নগরীর ক্বীনব্রিজ পর্যন্ত আসার কথা রয়েছে। সেখান থেকে এশিয়ান হাইওয়ে চন্ডিপুল হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত যাবে- এমন নকশা প্রণয়ন করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। গত মার্চ মাস থেকে এই সড়কটির সম্ভাব্যতা যাচাই এবং টেকনিক্যাল ও সোস্যাল স্ট্যাডি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথের (সওজ) একটি দল শেওলা থেকে সিলেটের বর্তমান আঞ্চলিক সড়কটি মাপঝোঁক করে গেছে।

তবে সূত্র জানিয়েছে, এই সড়কের ম্যাপে শেষ পর্যন্ত কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। যানজট এড়াতে সড়কটি ক্বীনব্রিজ পর্যন্ত না এসে দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুর থেকে পারাইরচক বাইপাস হয়ে বর্তমান সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সাথে যুক্ত হতে পারে। এ হাইওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ কিলোমিটার হতে পারে বলে সওজ সূত্র জানিয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া জানান, শেওলা-গোলাপগঞ্জ-সিলেট-কাঁচপুর এশিয়ান হাইওয়ের প্রকল্প সওজ ঢাকা অফিস থেকে তদারকি করা হচ্ছে। হাইওয়েটি বাস্তবায়ন করতে হলে কি পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা লাগবে, অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকের সংখ্যা, স্থাপনার সংখ্যা এসব বিষয়ে জরিপ চলছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার অঞ্চল এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এখানকার অর্থনীতি ও সড়ক যোগাযোগে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এ অঞ্চল রূপান্তর হতে পারে শিল্পাঞ্চলে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখানে গড়ে ওঠতে পারে শিল্প কারখানা। সৃষ্টি হবে দেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগের; ফলে তৈরি হবে বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান- এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

এছাড়াও সিলেট-তামাবিল মহাসড়ককে ৬ লেনে (২টি সার্ভিসলেন-সহ) উন্নীত করে এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত করতে ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা বাস্তবায়নের লক্ষে গত বছরের শেষের দিকে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাশ হয়।

শিল্প ও বাণিজ্য গতিশীল করতে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক জোরদারের লক্ষ্যে ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প’ হিসেবে এটি হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হিসেবে নরসিংদীর কাঁচপুর থেকে সিলেটের শেরপুর হয়ে তামাবিল দিয়ে এই সড়কটি যুক্ত হবে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে।

অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যাপারেও জরিপ কার্যক্রম চলছে। এসব কার্যক্রম শেষ হলে হাইওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সিলেট-তামাবিল ও সিলেট-সুতারকান্দি সড়ক যুক্ত করার আগে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনের কাজ শেষ করতে হবে।

এদিকে, এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সড়ক দুটি যুক্ত হলে সিলেটের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হলে সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়াও চীন, ভুটান, নেপাল, মায়ানমারের সাথেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সিলেটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে সবেচেয়ে বেশি সুফল নিয়ে আসতে পারে সিলেটের শিল্পায়নে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সিলেটে গড়ে ওঠতে পারে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। বিশেষ করে সিলেটে নির্মাণাধীন হাইটেক পার্ক এবং প্রস্তাবিত সিলেট ইকোনোমিক জোন ও শ্রীহট্ট ইকোনোমিক জোন বাস্তবায়িত হলে সেখানে দেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগে গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান। এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করে এসব ইকোনোমিক জোনে উৎপাদিত পণ্য সহজেই সার্কভূক্ত দেশ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। এতে রফতানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close