এডিটর্স পিকসটপ স্টোরিজপ্রবাসে সফল বাঙালী

ব্রিটেনের হেরিটেজ টাউনের মেয়র বাংলাদেশী অরিজিন এক গৃহবধু

ইব্রাহিম খলিল : ইংলিশ চ্যানেলের তীরবর্তী শহর রামসগেইট। এই শহরকে ব্রিটেনের কোস্টাল হেরিটেইজ টাউন বলা হয়। যেখানে রয়েছে ব্রিটিশ ঐতিহ্যের রয়েল হার্বার। শহরটির অধিকাংশ বাসিন্দা শেতাঙ্গ। এক শতাংশেরও কম মানুষ আছেন যারা অভিবাসী। মাত্র ৯টি পরিবার রয়েছে বাংলাদেশী। এমন একটি শহরে রানীর প্রতিনিধি হলেন বাংলাদেশী অরিজিন অতি সাধারন এক গৃহবধু রওশন আরা জামান। যিনি তার কাজ এবং ভালবাসা দিয়ে জয় করেছেন মানুষের হৃদয়।
রামসগেইট টাউনের রাজনীতিতে দেশটির ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির আধিপত্য। আর রওশন আরা করেন বিরোধী দল লেবার পার্টির রাজনীতি। ২০১৫ সালে তিনি এই কাউন্সিলের একটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করে হেরে যান। ২০১৭ সালের সাধারন নির্বাচনে এমপি প্রার্থী ছিলেন কেন্টের সাউথ থেনেন্ট আসনে। আর সর্বশেষ চলতি বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রামসগেইট টাউন কাউন্সিলের সেন্টাল হার্বার ওয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। গত ১৪ মে কাউন্সিলের সাধারন সভায় তাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেন কাউন্সিলাররা। এর মাধ্যমে রওশন আরা শহরটিতে এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। তিনি ইংলিশ হেরিটেইজ টাউনে শুধু মুসলিম বা নারী মেয়র নয়, প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র।
মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় খুবই আনন্দিত রওশন আরা জামান। বললেন- এই অর্জন সম্মানের। এই অর্জন এগিয়ে চলার অনুপ্রেরনা। বৈচিত্র এবং ঐতিহ্যের রামসগেইটে সকল জাতি ধর্মের মানুষের প্রতিনিধি তিনি। কাজ করতে চান সকলের কল্যানে। আরও বেশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র আনার চেষ্টার কথাও বলেছেন রওশন আরা। তার অন্যতম টার্গেট গৃহহীন মানুষদের জন্য কাজ করা। এই প্রজেক্ট তিনি গত ২০ বছর ধরে পরিচালনা করছেন। । এক্ষেত্রে সাময়িক কিছু করার চেয়ে স্থায়ী সমাধানের দিকেই দৃষ্টি তার।
চ্যারিটি তথা মানবিক কার্যক্রম তার জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করেছেন। ক্যারিয়ারে সফলতা এনে দিয়েছেন অকপটে স্বীকার রওশন আরার। চ্যারিটি এবং দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য রওশন আরার অসামন্য অবদান মেয়র পদে আসতে সহায়তা করেছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সেরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যাল বুয়েটের ছাত্র রজব আলী খান। তিনি ১৯৬৩ সালে পড়ালেখার জন্য বিলেত পারি জমান। পরবর্তীতে ছেলে মেয়েদেরকেও এ দেশে নিয়ে আসেন। রওশন আরাও তার বাবার সাথে ৭ বছর বয়সে বিলেত আসেন। ছোটবেলা কেটেছে লেস্টার এবং রাজধানী লন্ডনে। বিজনেস এন্ড ল বিষয়ে করেছেন উচ্চতর ডিগ্রী। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে রামসগেইটে বসবাসের জন্য চলে আসলে বিবাহ বন্ধবে আবদ্ধ হন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ব্যবসায়ী রেজাউর রহমান জামানের সাথে। এই শহরেই তিনি বাস করছেন গত ৩০ বছর ধরে।
রওশন আরা মূলত গৃহবধু হিসেবে কাটিয়েছেন বহু বছর। স্বামী রেজাউর রহমান শহরের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এবং এক সময় লেবার রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু ব্যবসার ব্যস্ততা তাকে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে দেয়নি বেশীদূর। নিজে না পারলেও স্ত্রী রওশন আরাকে এগিয়ে নিতে নেপত্যে কাজ করতে থাকেন। উতসাহ ও অনুপ্রেরনা দিতে থাকেন সর্বদা। কমিউনিটি কানেকশন, ব্যবসায় স্ত্রীকে সম্পৃক্ত করা এবং নিজের বিভিন্ন সমাজিক কার্যক্রমেও সঙ্গে রাখেন প্রিয়তমা স্ত্রীকে।

হোমলেস মানুষের জন্য চ্যারিটি, কমিউনিটি কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহন এবং রামসগেইটে লেবার রাজনীতিতে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে রওশন আরার। গত ২০ বছর ধরেই তিনি সমাজ ও কমিউনিটির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেন। এই চ্যারিটি ও সমাজসেবাই সাধারন রওশন আরাকে অসাধরন করে তুলে। হয়ে উঠলেন শহরটির গ্রেট সিটিজেন।
রওশান আরার জন্ম বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। আর স্বামী রেজাউর রহমান জামানের বাড়ি পিরোজপুরে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রেস্টুরেন্ট এবং প্রপার্টি ব্যবসায়ী। দুই সন্তানের একজন অক্সফোর্ড গ্রাজুয়েট এবং অন্যজন পড়ছেন স্থানীয় একটি কলেজে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close