ফিচার

আমার শৈশব

মোশাররফ হোসেন সুজাত:

যতদূর মনে পড়ে বয়স আমার, আঠ কিম্বা নয়
তখন থেকেই চঞ্চলতা, সবার’ই যে একটু হয়
মক্তবে তে যেথাম যখন, সাত-সকালে উঠে
দেখতাম তখন গার্জিয়ানরা, বসছেন তেলাওয়াতে
আটটায় এসে নাওয়া খাওয়া, দশটায় দৌড় স্কুলে
স্যার ক্লাসে আসার আগে, জম্পেশ আড্ডা সবাই মিলে
ক্লাস টিচার হাজিরা নিতেন, বলতেন শিখছো পড়া
আমতা আমতা বলতাম কিছু, বাকিতে কান মোড়া।

নামতা জানতাম ভালো, অংকেতে ছিলাম ভারী
ইংরেজি ক্লাস আসলে তখন, বাঘের দরজায় পাড়ি
হাতের লেখা ভালোই ছিলো, মুখস্থ বিদ্যায় গাদা
ক্লাস আড্ডা আর হৈ-হুল্লোড়ে, ছিলাম আস্ত পাকা
কবিতা ছিলো ছন্দ মিলে, পড়তে লাগতো ভালো
বাকি সবই গদ্য মিলে, তাই বিরক্তিকর পড়তে গেলে।

বাড়ি এসে আতা গাছের, হতাম তোতা পাখি
আম জামের বাদুড় খটা, সবই তখন আমি
দুপুর বেলার খাওয়া দাওয়া, এরপর একটু ঘুম
বিকাল বেলা খেলার মাঠে, যাওয়ার পড়তো ধুম
ফুটবল, হাডুডু, মার গুল্লি, আর কানামাছি
এসব খেলা খেলতে গিয়ে, করতাম কত মিছামিছি।

পাশের গ্রামে নানা বাড়ি, নানা আসতেন মোদের বাড়ি
আদর সোহাগ করতেন নানা, দিতেন দু-এক টাকা
টাকা পেয়ে খুশির টেলায়, দিতাম দৌড় এক বাজারে
পিছন ফিরে নানা দেখেন, আমি তখন হাওয়া রে
মার গুল্লি খেলা হতো পথঘাটে, আর বাঁশের ছায়ায়
ছাগল পোষা অভ্যাস ছিলো ছুটির ফাঁকে, দুপুর বেলায়।

শীতের বেলা গ্রামের জলছায়,বসতো কতো রঙেরমেলা
ব্যাটমিনন্টন খেলা দিয়ে কাটিয়ে, দিতাম রাতের বেলা
প্রাতবেলায় পুতুল গাড়ি আন্টি লাটিম বাঁশি চশমা ঘড়ি
সব কিনা হতো আমার, আর ভাইবোন মা খালাদের
এতো খুশি হতাম আমি, ঈদ যেন মোর হেথায় সবি
কই যে গেলো সুখের শৈশব, কই গেলো যে খেলার সাথী
ভাবতে গেলে কান্না আসে,জানি তবে আজ সবই স্মৃতি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close