সোনার বাংলাদেশ

আতর-টুপির দোকানে ক্রেতাদের ভিড়

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদের বার্তা। ঈদের কেনাকাটা প্রায় শেষের দিকে। এখন বাকী ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ আতর আর টুপি। আবার অনেকে চোখে লাগাবেন সুরমা। একটু আতর ও একটি নতুন টুপি ছাড়া কি জমে উঠে ঈদের নামাজে যাবার আনন্দ। তাই শেষ মুহূর্তের কেনা কাটায় আতর টুপির খুঁজে ব্যস্ত লোকজন।
নগরীর বিভিন্ন আতর টুপির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, আতরের বাজারে ভারতীয় কোম্পানীর চাহিদা বেশী। এছাড়া, দুবাই ভিত্তিক আতরের চাহিদাও রয়েছে। তবে, দেশীয় আতরের চাহিদাও একেবারে কম নয়।
আকর্ষণীয় নক্সা আর নানা কারুকার্যে সুসজ্জিত টুপির প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশী। দেশী টুপির পাশাপাশি বাহারি নক্সা আর আকৃতির বিদেশী টুপিও পাওয়া যাচ্ছে এসব দোকানে। ক্রেতাদের পছন্দের টুপির মধ্যে তার্কি, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, চট্টগ্রামের জালি এবং সিলেটের হরিপুরের টুপিও রয়েছে। চট্টগ্রামের জালি টুপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর বন্দরবাজার, কুদরত উল্লাহ মার্কেট, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, শাহজালাল (রহ:) মাজারের আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত অবধি নতুন জামা কাপড়ের পাশাপাশি ক্রেতারা টুপি-আতর কিনছেন। ১০ টাকা থেকে শুরু ৫’শ টাকাতেও টুপি বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা আতর কিনছেন ৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকায়। এ ভিড় ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত থাকবে বলে জানালেন দোকানীরা। এসব সামগ্রীর স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার মসজিদের সামনেও বসেছে অস্থায়ী দোকান।
কুদরত উল্লাহ মার্কেটের টুপি ব্যবসায়ী হোসেন আহমদ জানান, এবারও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় আতর। এর মধ্যে রয়েছে আল নাঈম, আল মাস, রয়ের প্রসেসিং, সুইট হার্ট, নাজমীন, চকলেট মাক্স, আলীশাহ, রোজ মাক্স, উদ আল আরব, রয়েল মিরাজ, হাজর আল আসওয়াদ, বাকুর, সিদরা, রয়েল মেরী, ডেস্ট, ম্যাট, চকলেট, সিলভার হুয়াইট, জেটেক্স ইত্যাদি।
দুবাই ভিত্তিক আতরের চাহিদার মধ্যে আল রাইয়্যান, লাওহে মাহফুজ, প্রিন্স, উদ আল মনসুর, মেরাজ, কমর, আল রিহ্যাব, আম্বার হেনা, আম্বারী উদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, নোহা ইত্যাদি। দেশীয় আতরের মধ্যে বেশী বিক্রি হচ্ছে সিলভার, স্ট্রবেরি, বকুর, উদ, সাদ সফা, আল বকুর, বেলী, রজনীগন্ধা, হাসনা হেনা, রেড রউজ, তিব্বত ও স্কয়ার কোম্পানীর আতর। বিক্রেতারা জানালেন, বড়লেখার আতরের চাহিদাও রয়েছে ক্রেতাদের মাঝে। তবে, এর দাম বেশী হওয়ায় হাতে গোনা কয়েকজন গ্রাহক রয়েছেন।
আতর-টুপি ব্যবসায়ীরা জানান, এবারও ভালো ব্যবসা হচ্ছে।
বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটের দোকানে এবং ব্র্যান্ড হাউসগুলোতেও আতর-টুপি বিক্রি হচ্ছে। এসব হাউসে দাম একটু বেশী হলেও মানসম্পন্ন আতর ও টুপি কিনতে পারছেন বলেও জানান ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন নতুন ডিজাইন আর কম দামের কারণে দেশি টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্রেতাদের পছন্দের টুপির মধ্যে তার্কি, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, চট্টগ্রামের জালি টুপি এবং সিলেটের হরিপুরের টুপিও রয়েছে। দেশীয় টুপির মধ্যে আল হাই, সাইফুল, আল ফারুক, আলফা, চিশতিয়া, এমআর টুপির কদর রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পোষাকের সাথে মিল রেখে অনেকেই টুপি কিনছেন। সাথে চলছে আতর কেনার কাজ। নগরীর ফুটপাতেও বসেছে আতর টুপির দোকানের পসরা। আম্বরখানা এলাকার ফুটপাতের দোকানী সোহেল জানান, তার কাছে দেশী বিদেশী প্রায় বারো রকমের আতর আছে। ছোট বোতল প্রতি ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২শ’ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির আতর বিক্রি করছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আতর টুপির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও চোখে সুরমা লাগাবেন এমন ক্রেতা খুবই কম। সোলেমানী, নূরানী, হাবিবী, নার্গিসী কোম্পানীর সুরমা বিক্রি হচ্ছে। ১০ থেকে ২শ’ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে সুরমা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close