সোনার বাংলাদেশ

উদ্বেগ উৎকণ্ঠা মানুষের মাঝে নদীভাঙন নিয়ে

নদীভাঙন নিয়ে মৌলভীবাজারের মনু পারের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। ২০১৮ সালে রমজান মাসে ঠিক ঈদের আগেই সীমান্তের অপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লন্ডভন্ড হয়ে যায় মনু পাড়ের জনপদ। মনু নদীর ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চলতি বছর ফের বন্যার আশঙ্কা মানুষের মাঝে।
মৌলভীবাজার জেলায় বিগত ২০১৮ সালে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ২৮টি স্পটে ভাঙন দেখা দেয়। বিশেষ করে কুলাউড়া উপজেলার গ্রামীণ জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ক্ষতির দিক থেকে কুলাউড়ার পরে রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা। বন্যার পানি কমার সাথে সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন মেরামতে হিমশিম খায়। তারপরও শুধুমাত্র কুলাউড়া উপজেলার কাউকাপন বাজার ছাড়া সবক’টি ভাঙন কবলিত এলাকা মেরামত কাজ সম্পন্ন করে পাউবো। কিন্তু খরস্রোতা মনু নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে পাউবো মনু নদীর ২০টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। আগাম প্রস্তুতি হিসাবে এইসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মেরামতের মাধ্যমে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মনু নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সমূহের মেরামত কাজ করা হবে সেগুলো হলো- রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের কোনাগাঁও (খেয়াঘাট), আদিনাবাদ, উজিরপুর, কান্দিরকুল। মনসুরনগর ইউনিয়নের প্রেনগর, কামারচাক ইউনিয়নের কালাইকোনা, চাটিকোনাগাঁও, চাটিকোনাগাও কোনাগাও, টুপিরমহল। কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের মিয়ারপাড়া, সান্দ্রাবাজ, হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর, চানপুর, হাজীপুর মন্দিরা,চকরনচাপ। পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ছৈদলবাজার, আলীনগর, ধলিয়া, কলিরকোনা। শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের ঢেউপাশা, মমরুজপুর ও মিরপুর।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন জানান, বৃষ্টির পর নদীর পানি বাড়লে তাদের মনে আতঙ্ক দেখা দেয়। তারা বাঁধের উপর অবস্থান নেন এবং দেখেন কোনদিকে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে কিনা? কোন স্থানে গর্ত দেখলে নিজেরাই ভরাট করেন।
সরেজমিনে কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু, টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নবাব আলী বাখর খান জানান, মুন নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। এমনিতেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তারপরও আবহওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। যদি সীমান্তের ওপারে ভারি বর্ষণ হয়, তবে যেকোন সময় ভাঙন দেখা দিতে পারে। ফলে এখানের মানুষ আতঙ্ক। সবার একটাই দাবি, গতবারে মতো এবার যেন তাদের দুর্বিষহ জীবন কাটাতে না হয়। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ আগে থেকে মেরামত করার দাবি মনু তীরের ৫ লক্ষাধিক মানুষের।
এব্যাপারে মৌলভীবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র চক্রবর্তী জানান, চলতি মৌসুমে কিছু সময়ে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নিচে কুশিয়ারায় পানি কম আছে, আশা করি বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি নাও হতে পারে। তবে মনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতের কাজ চলছে। ঈদের কারণে শ্রমিক সঙ্কট থাকায় কাজ একটু ধীরে হচ্ছে। তবে ঈদের পরপরই দ্রুত কাজ শেষ হবে। এছাড়া ধলাই নদীর ভাঙনে কমলগঞ্জ উপজেলার উত্তর আলেপুরসহ ব্যাপক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব এলাকায় ব্লক স্থাপনসহ জোরালো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
Close