সোনার বাংলাদেশ

চালু হচ্ছে ঢাকা-গুয়াহাটি সরাসরি বিমান ফ্লাইট

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ঢাকা-গুয়াহাটি-ঢাকা সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালু হচ্ছে। ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা স্পাইসজেট এই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দি ইকনমিক টাইমস-এ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উদান (UDAN) স্কিমের আওতায় এ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
উদান ইন্টারন্যাশনাল স্কিম হচ্ছে- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তূকিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং নির্ধারিত আন্তর্জাতিক গন্তব্যে আকাশপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি।
ভারতের উত্তর-পুর্ব রাজ্যগুলোর মধ্যে আসাম হচ্ছে বৃহৎ একটি রাজ্য। আসামের প্রশাসনিক রাজধানী হচ্ছে গুয়াহাটি। এ রাজ্যে অন্তত ৩ কোটি লোকের বসবাস। উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্য ‘সেভেন সিস্টার’স নামে ব্যাপক পরিচিত। সেভেন সিস্টার্সভুক্ত রাজ্যগুলো হচ্ছে-আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, অরুণাচল ও ত্রিপুরা।
সেভেন সিস্টার্সের অন্তর্ভুক্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাথে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা। এইসব রাজ্যে অনেক বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করেন। পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা)’র সাথে বাংলাদেশের আকাশপথ, সড়কপথ ও রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এছাড়া, ভারতের আগরতলা, শিলং-গুয়াহাটি শহরের সাথেও বাস সার্ভিস চালু আছে। গুয়াহাটি-ঢাকা বিমান ফ্লাইট চালু হলে এসব রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা স্পাইসজেটের ফ্লাইটটি চলতি বছরের পয়লা জুলাই থেকে প্রতিদিন আসামের গুয়াহাটি গোপীনাথ বড়দলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভারতীয় সময় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। আবার ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা হবে দুপুর ১টা ১০মিনিটে। ইতোমধ্যেই গুয়াহাটি থেকে ঢাকা একক পথে করসহ ভাড়া ৩ হাজার ৩শ’ ৫৫ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’স হিসেবে পরিচিত ৭টি রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের সাথে সড়কপথ, রেলপথ, নৌ-পথ এবং আকাশপথ ব্যবহার করতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী উত্তর-পূর্ব ভারতের সরকারগুলো। গত এক বছর থেকে ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ট্রানজিট সুবিধা আদায় করতে এরই মধ্যে ভারত সরকার কয়েক দফা বাংলাদেশ সরকারের সাথে বৈঠক করেছে। ৭টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীগণও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সাথে বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বর্তমানে একমাত্র সরাসরি ঢাকা-কলকাতা বিমান ফ্লাইট চালু রয়েছে।
এ অবস্থায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ঢাকাসহ আরো ৫টা আন্তর্জাতিক রোট-এ সরাসরি বিমানের ফ্লাইট পরিসেবা চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে কাঠমান্ডু-ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়লালামপুর ও ইয়াংগুন। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে এ সব ফøাইটের ভাড়া ঠিক করতে একটা খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় সিভিল এভিয়েশন এ নিয়ে আসাম সরকারের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। চলতি বছরের মধ্যে গুয়াহাটি-ঢাকাসহ আরো ৫টা আন্তজার্তিক রোট-এ বিমান ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বছরের জুলাই মাস থেকে আসামের গুয়াহাটি-ঢাকা সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু করা হচ্ছে। গুয়াহাটি-ঢাকা বিমান ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত হওয়ায় খুশি হয়েছেন আসামসহ সেভেন সিস্টার্সের মানুষজন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অনেক পর্যটক এবং চিকিৎসা কাজে হাজার হাজার নাগরিক মেঘালয় ও আসাম রাজ্যসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সফরে যাচ্ছেন। গুয়াহাটি-ঢাকা সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালু করা হলে উভয় দেশ উপকৃত হবে। মেঘালয়, গুয়াহাটি, শিলচর, করিমগঞ্জ, কাছার জেলাসহ ভারতের উত্তর পূর্ব রাজ্যের অনেক পর্যটক বাংলাদেশে ভ্রমণে আসা সহজ হবে। ফলে সিলেটের সাথে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি ঘটবে।
এ বিষয়ে আসাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক মিলন উদ্দিন লস্কর বলেন, সম্প্রতি আসামের গুয়াহাটি শহরে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন অফিস চালু করা হয়েছে। আসামে বসবাসরত বাসিন্দাগণ মনে করেন, গুয়াহাটি-ঢাকা সরাসরি বিমান ফ্লাইট পরিসেবা চালু হওয়ায় অসমিয়াদের সাথে বাঙালিদের সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ হবে।
সিলেট ট্যুরিজম ক্লাব সভাপতি সাংবাদিক হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, গুয়াহাটি থেকে ঢাকা সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালু করার সিদ্ধান্ত অনেকটা ভালো হয়েছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রামের যাত্রীগণ বিমানে যাতায়াত করবেন। ফলে তামাবিল ও ডাউকী ইমিগ্রেশন অফিসে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আরো বিকাশ ঘটবে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close