ফিচার

হৃদয়ের কালিতে লেখা

বাছিত ইবনে হাবীব : একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ মানে অনেক আলোর সম্পাত। বহু নূতন বোধের সম্মিলন। বহু চেতনার ফসলী সম্ভার। বহু নূতন আনন্দ রশ্মির মননী বুদ্বুদ। সিলেটের বিশিষ্ট কলামিষ্ট বেলাল আহমদ চৌধুরীর দীর্ঘ সাধনার শব্দের উদ্যান হৃদয়ে আমার মক্কা মদীনা গ্রন্থটি হাতে নিয়ে তা ই মনে হলো।
লেখক অত্যন্ত দরদের সাথে বইটিতে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর জন্ম ও কর্মস্থল মক্কা মদীনাকে সামনে রেখে গোটা মুসলিম উম্মার সামনে উপস্থাপন করেছেন মুসলমানদের হৃদয়ের দুই স্বর্ণ প্রকোষ্ঠ মক্কা মুকাররমা ও মদীনা মনোওয়ারা।
বেলাল চৌধুরী অত্যন্ত মূল্যবান এই গ্রন্থটিকে দুটো অধ্যায়ে ১১৬টি পরিচ্ছেদে ভাগ করে একটি সম্পূর্ণ সফল গ্রন্থের রূপ দেবার চেষ্টা করেছেন। বইটি দ্বীন ধর্মের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী একজন মুসলমানের দৃঢ়তর ঈমানি কন্ঠস্বরের সাক্ষীবাহী।
হৃদয়ে আমার মক্কা মদীনা গ্রন্থটি নিছক একটি হজ্ব গাইড নয়। হজ্ব পালনকেন্দ্রিক চেতনা থেকে উৎসারিত ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোকপাতের ঢাউস গ্রন্থ।
প্রথম অধ্যায়ের প্রথম পর্বের দিকে দৃষ্টি দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। হৃদয়ে স্বপনের অংকুর শিরোনামের প্রথম অধ্যায়ে তার বক্তব্য-স্বপ্ন ই মুমিনের জীবন। এই স্বপ্ন ই তার জীবনের একমাত্র পাথেয়। কবিতা থেকে উদ্বৃতি দিয়েছেন-বক্ষে আমার কাবার ছবি চক্ষে মোহাম্মদ। আরো লিখেছেন-আল্ল¬াহর শোকর আমার জীবনের পরম সৌভাগ্য আল্ল¬াহতালা আমাকে হজ্ব ও জিয়ারতে নবীজির রওজা মোবারকে যাওয়ার তৌফিক দিয়েছেন। বইটির শেষ অধ্যায়ের শেষ পর্বে লেখকের কয়েকটি কথা পাঠককুলের প্রাণ কেড়ে নেবার মতো।
মক্কা মদীনা দর্শন আমার কাছে স্বর্গের সমান। পৃ-৩০৩
লেখক অত্যন্ত সচেতনভাবে ইতিহাস ঐতিহ্যের দিকে পাঠককূলের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হবেন বলে মনে হয়। বইটির ২৮৬ ও ২৮৭ পৃষ্ঠায় চোখ রাখলে এ বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে। জংগে বদর জংগে অহুদ সহ ইসলামের ইতিহাসের বহু গুরুত্ববাহী অধ্যায়ের সুন্দর বর্ণনায় বইটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বশ্রেষ্ঠ কয়েকজন কবির কবিতার উদ্ধতি গ্রন্থটির নান্দনিকতা বর্ধনে পালন করেছে ব্যাপক ভূমিকা। যেমন-কবি সাহাবী কাব রাঃ মাত্র চরণে আল্ল¬াহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন তোমার আলোকে নেই পৃথিবীতে কোন অন্ধকার তুমিতো আল্ল¬াহর প্রিয় ঝলসানো মুক্ত তরবার। পৃ-২৫২ “সত্য তরবারির চেয়েও ধারালো। এ তরবারী চালনায় কার্পন্য করা উচিত নয়।” শেখ সাদী রঃ পৃ-৩০০
গ্রন্থটি পাঠে মনে হয়েছে লেখক বেলাল চৌধুরী তার হজ্ব যাত্রার মধ্য দিয়ে একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। এতে সুসম্পন্ন হয়েছে তার কলমী যাত্রা। হৃদয়ে আমার মক্কা মদীনা বইটি তার মাস্টারপিস হয়ে থাকবে। সুন্দর প্রচ্ছদ ঝকঝকে ছাপা বর্ষাস্রোতের মতো প্রাকৃতিক বর্ণনা বইটির গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম কারণ হয়ে থাকবে।
একটি বিষাদমাখা হৃদয়ের আকুতি ও অনুশোচনাবোধ গ্রন্থটির মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেমন মসজিদে নববীর এলাহী পরিসরে এক সংগে জামাতে প্রায় সাত লাখ নামাজী মুমিনের সাথে শরীক হয়ে নামাজ পড়ার সৌভাগ্য কি আর হবে? পৃ-৩০৭
হৃদয়ে আমার মক্কা মদীনা গ্রন্থটি আঠারো খানা মূল্যবান গ্রন্থ পাঠের তাজা ফসল। বেলাল চৌধুরী বইটির সর্বশেষ পৃষ্ঠায় সহায়ক গ্রন্থসমূহ ও গ্রন্থকারদের নাম উল্লে¬খ করে তার বৃহৎ মনের পরিচয় দিয়েছেন।
হৃদয়ে আমার মক্কা মদীনা গ্রন্থটি নিছক একটি হজ্ব গাইড নয়। হজ্ব পালনকেন্দ্রিক চেতনা থেকে উৎসারিত ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোকপাতের ঢাউস গ্রন্থ।
বেলাল চৌধুরী অত্যন্ত নিষ্টার সাথে মক্বা মদীনার বর্ণনার পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা করেছেন। উৎসারিত করেছেন এর চিরকালিন ঐতিহ্যর বিভিন্ন দিক গৎশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর জীবন দর্শনের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণাই গ্রন্থটির উপজীব্য।
এটি গভীরভাবে পঠিত হলে পাঠকবর্গ কিছু নতূন শিহরণে আন্দোলিত হবে। একজন দ্বিনের পাবন্দ হাজি সাহেবের আন্তরিক উপস্থাপনার নান্দনিক দলিল হিসেবে বইটি টিকে থাকবে।
লেখক ৪২ দিনের দীর্ঘ হজ্জ যাত্রার বর্ণনা শেষে তার বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় এসে কবি কাজি নজরুল ইসলামের ভাষায় আল্ল¬াহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন
‘এবার আমায় সপে দিলাম তোমার চরণ তলে
তুমি শুধু মুখ তুলে চাও, বলুক যে যা বলে।’
লেখকের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আমিও বলি আল্ল¬াহ এই লেখক তার বই ও মিশনকে তুমি কবুল করে নাও।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close