খেলাধুলা

জয়ের জন্য লক্ষ্য উৎরাতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া

জয়ের জন্য ৩৫৩ রানের লক্ষ্য উৎরাতে পারেনি বিশ^চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের ‘স্বভাবসুলভ’ ব্যাটিংয়ের বিপরীতে শুরু করা ইনিংস শেষমেষ থেমেছে ৩১৬ রানে। লন্ডনের দি ওভালে গতকাল রোববার ৩৬ রানে হারে এরন ফিঞ্চের দল।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচসেরা শিখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরিতে ভর করে ভারত সংগ্রহ করে ৩৫২ রান। দাপুটে ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন শিখর ধাওয়ান। ওপর ওপেনার রোহিত শর্মাও ছিলেন ছন্দে। এই দুই ওপেনারের ব্যাটে ভর করে ভালো ভিত পায় ভারত। দৃঢ় ভিত কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলকে সবচেয়ে বড় সংগ্রহ এনে দেন বিরাট কোহলি। সম্মিলিত চেষ্টায় প্রাণপণে লড়াই করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবুও পারল না অ্যারন ফিঞ্চের দল। টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিলো ভারত।
অস্ট্রেলিয়াকে অনেকবার ভোগানো ধাওয়ান ও রোহিতের উদ্বোধনী জুটি এদিন শুরু থেকে ছিল সাবধানী। আক্রমণ থেকে দুই গতিময় পেসার মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স সরে যাওয়ার পর বাড়ে রানের গতি। ন্যাথান কোল্টার-নাইলকে সপ্তম ওভারে টানা তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ডানা মেলেন ধাওয়ান। রানের গতিতে দম দেওয়ার কাজটা করেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রোহিত। জমে যায় জুটি। ১৯তম ওভারে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে জুটি ও দলের রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রোহিত-ধাওয়ানের এটি ষষ্ঠ শতরানের জুটি।
শুরুতে রোহিতের কঠিন একটি ক্যাচ হাতছাড়া করেছিলেন কোল্টার-নাইল। এই পেসারই শেষ পর্যন্ত থামান ডানহাতি ওপেনারকে। ৭০ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৫৭ রান করেন রোহিত।
কোহলির সঙ্গে ৯৭ রানের আরেকটি ভালো জুটি উপহার দেন বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ধাওয়ান। স্টার্কের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ১১৭ রানের ইনিংস। ওয়ানডেতে ১৭তম ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ সেঞ্চুরি পাওয়া বাঁহাতি এই ওপেনারের ১০৯ বলের ইনিংস গড়া ১৬ চারে।
রানের গতি বাড়াতে প্রমোশন পেয়ে চার নম্বরে নামা হার্দিক পান্ডিয়া প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়েছিলেন। গ্লাভসে বল জমাতে পারেননি অ্যালেক্স কেয়ারি। সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান এই অলরাউন্ডার। ২৭ বলে তিন ছক্কা ও চারটি চারে খেলেন ৪৮ রানের এক ইনিংস।
পান্ডিয়ার সঙ্গে ৮১ রানের জুটি উপহার দেওয়া কোহলি ওয়ানডেতে তুলে নেন পঞ্চাশতম ফিফটি। বিশ্বকাপে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন ভারতের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান।
ক্রিজে গিয়েই শট খেলতে শুরু করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এই সময় কোহলি কমই পেয়েছেন স্ট্রাইক। ১৪ বলে খেলা ধোনির ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস শেষ হয় মার্কাস স্টয়নিসের দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচে। শেষ ওভারে ছক্কার চেষ্টায় শেষ হয় কোহলির ৮২ রানের ইনিংস।
শেষ বলে চার হাঁকিয়ে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষ প্রথম সাড়ে তিনশ ছোঁয়া সংগ্রহ এনে দেন লোকেশ রাহুল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে আগের সর্বোচ্চ ছিল গত আসরে শ্রীলঙ্কার করা ৩১২। ভারতের আগের সেরা ছিল ১৯৮৭ আসরে ৬ উইকেটে ২৮৯।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে পারেননি এরন ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার। ভারতের বোলারদের বিচক্ষণ বোলিংয়ের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার রান আসছিল অতি ধীর গতিতে। যার কারণে বাড়তে থাকে রানরেট।
১৩.১ ওভারে দলীয় ৬৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৩৫ বলে তিনটি বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারিতে ৩৬ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়েন ফিঞ্চ। তবে তার বিদায়ের পর ওয়ার্নারের সাথে জুটি বাঁধেন সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। এ জুটি ৭০ বলে ৭২ রান যোগ করেন। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার। তবে এরপর নিজের ইনিংসটি খুব বেশি বড় করতে পারেননি তিনি। দলীয় ১৩৩ ও ব্যক্তিগত ৫৬ রানে ওয়ার্নার আউট হলে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। যুজবেন্দ্রা চাহালের প্রথম শিকার হওয়ার আগে ৮৪ বল মোকাবেলায় বাউন্ডারি মারেন পাঁচটি। এরপর স্মিথ ও উসমান খাজা জুটিবদ্ধ হয়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৬২ বালে ৬৫ রান যোগ করার পর ব্যক্তিগত ৪২ রানে জসপ্রিত বুমরাহর প্রথম শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন খাজা। তবে একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন স্মিথ। তবে ৭০ বলে ৬৯ রান করে স্মিথ ভুবনেশ্বর কুমারের শিকার হলে ২৩৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ঝড়ো গতিতে শুরু করে ১৪ বলে ২৮ রানে আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে উইকেটরক্ষক এ্যালেক্স ক্যারি ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করে কেবলমাত্র পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমাতে পেরেছেন। শেষ দিকে আর কোন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে না পারলে সব উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস। কুমার এবং বুমরাহ তিনটি করে এবং চাহাল শিকার করেন ২ উইকেট।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close