সোনার বাংলাদেশ

ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি হাকালুকি হাওরে

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মিঠা পানির জলাভূমি হাকালুকি হাওর এখন অতিথি পাখির কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এ সব পাখি দেখতে পাখি প্রেমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন।
এদিকে, হাকালুকি হাওর এলাকায় অতিথি পাখিরা কখনো জলকেলি, কখনো খাদ্যের সন্ধানে এক বিল থেকে অন্য বিলে বিচরণ করায় পাখিদের চেঁচামেচিতে মুখরিত করে তুলছে হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের।
শীতের এ মৌসুমে প্রতিরাতে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি হাকালুকি হাওরে আসছে। বিশ্বের শীত প্রধান দেশগুলো খাদ্য ও প্রজননের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় এসব এলাকা থেকে পরিযায়ী পাখিগুলো ট্রপিক্যাল এলাকার দিকে দল বেঁধে চলে আসে। অতিথি পাখি ফ্লাইওয়ে হিসেবে বাংলাদেশকে নিরাপদ রুট মনে করে। হাকালুকি হাওরের পানি কমে গেলে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে পাখিরা উড়ে হিমালয়ের উপর দিয়ে না এসে পার্শ্ববর্তী এলাকা হয়ে বাংলাদেশে আসে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশকে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করছে হাওর এলাকার দর্শনার্থীরাও।
হাকালুকি হাওরে ছোট-বড় ২৮৩টি ছোট-বড় বিল জলাশয়ে বর্ষা এবং শীত মৌসুমে প্রাকৃতির সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি হাকালুকি হাওরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।
বিভিন্ন তথ্য ও জরিপ সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর ভূমি। হাওর এলাকায় দেশী-বিদেশী ৪১৭ প্রজাতির পাখির বিচরণ রয়েছে এ হাওর এলাকায়। এর মধ্যে ১১২ প্রজাতির অতিথি পাখি এবং ৩০৫ প্রজাতির দেশীয় পাখি।
পাখিদের মধ্যে রয়েছে বালি হাঁস, চিতিহাস, সরালী, ভূতি হাস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঙ্গা হাঁস, চখাচকি, নীলশির, পানকৌড়ি, সাদা বক পাখিসহ অসংখ্য পাখির সমারোহ। এর মধ্যে বালিহাঁসের বেশী আগমন ঘটে।
এদিকে, অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে হাওরপাড়ের মানুষের নিঝুমরাতের ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক হাওর এলাকায় এসে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখছেন।
হাকালুকি হাওর পাড়ের লোকজন জানিয়েছেন, ক’বছর পূর্বে অবৈধ ভাবে পাখি নিধন এবং জলাশয়ে মৎস্যজীবিদের আনোগোনার কারণে বিগত বছরগুলোতে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে গিয়েছিল। এখন আবার তারা এ দেশে ফিরতে শুরু করেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন সিএনআরএস ফেঞ্চুগঞ্জ আশিঘর গ্রাম সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দীন জানান, শীতের শুরু থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে। এসব পাখি নিরাপদ আশ্রয়ে যেন বসবাস করতে পারে সেজন্য তারা কাজ করছেন।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হক জানান, অতিথি পাখি সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সকলের, জীববৈচিত্র এবং পরিবেশ রক্ষায় অতিথি পাখিদের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি পাখি নিধনে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close