বিনোদন

নতুন এক আতংকের নাম টিকটক

গান কিংবা রম্য সংলাপের সাথে নিজের ব্যাঙ্গাত্বক মুখোভঙ্গি আর ঠোট মিলায়ে মাত্র ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও প্লাটর্ফম টিকটক। ১৫ সেকেন্ডের এই ব্যাঙ্গাত্মক রম্য সংলাপের প্রতিযোগীতায় মেতে আছে, শিক্ষার্থী, শিল্পী, তারকা, চিকিৎসক সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। অর্থহীন এ প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে অনেকে নিচ্ছেন জীবনের ঝুঁকিও। অন্যের মনোযোগ আকর্ষন করে নিজেকে আলোচনা আনার এমন প্রবনতাকে অসুস্থতা বলছেন মনোবিদরা।
টিকটক এক দিকে যেমন অশীল রুচিশীল কর্মকান্ডে বিস্তার ঘটাচ্ছে অন্য দিকে তৈরী করছে মানসিক বৈকল্য তাই অ্যাপসটি বন্ধে প্রশাসনিক উদ্যোগ দরকার বলেও মনে করছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা।

কাওরান বাজারের চা বিক্রেতা রায়হান; বেচা বিক্রির ব্যস্ততার মধ্যেও সচল তার মোবাইলে টিকটক অ্যাপস। পছন্দের গানের সাথে ক্রমাগত মুখোভঙ্গি করে ঠোট মিলিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওটি আপলোড হলেই লাইক, শেয়ারের বন্যা বইবে বলে মনে করছে রায়হান। জানতে চাইলে বলেন, কাজের ফাকে ফাকে করি একটু আধটু বিনোদন নেয়া। একাকীত্ব দ‚র করতেই এইডা করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সঞ্চারী প্রতিভা বলেন, বিষন্নতা অথবা এনজাইটির রিলেটেড যে ডিসঅর্ডারের গুলো আছে মানসিক রোগের ডিকশনারিতে, সে ধরনের রোগ গুলো এ হীনমন্যতা থেকে তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা আসলে খুব ছোট বয়সেই বাচ্চাদের মোবাইল দিচ্ছি। আগেও কিন্তু ছেলে মেয়েরা বড় হয়েছে মোবাইল ছাড়া। এখন হচ্ছে বাসায় বাচ্চা কাঁদছে, তাকে একটা মোবাইল হাতে ধরিয়ে দিলো। এ প্রবনতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরমের সভাপতি মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, সামাজিক সচেতনতা জরুরী কিন্তু এ সচেতনতা কতক্ষন। সে হয়তো বাহিরে গিয়ে পার্কে গিয়ে ভিডিওটা বানাচ্ছে। কিংবা অন্য জায়গায় গিয়ে ভিডিওটা বানাচ্ছে। তখন আসলে বাবা মায়ের কিছু করার থাকে না। রাষ্ট্র যদি এটার ব্যবস্থা না নেয় তবে এর প্রবনতা দিনদিন আরো বাড়বে।
২০১৬ সালে চীনে টিকটকের জন্ম হলেও সেখানে এটির ব্যবহার নেই বললেই চলে। অথচ ভারতে এর অ্যাপসটি ডাউনলোটের হয়েছে ২৪ কোটিবার। বাংলাদেশও এখন কি সে পথে হাটবে?

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
Close