ধর্ম

নিশ্চিত করতে হবে শিশুর জন্য অর্থবহ নাম

নাম হলো পরিচয় বা নিদর্শন। নামের আরবি হলো ‘ইসম’। ইসম অর্থ চিহ্ন, আলামত, পরিচিতি ইত্যাদি। মানুষ দুনিয়ায় আসার পর প্রথম যা লাভ করে তা হলো তার নাম-পরিচয়। মৃত্যুর পর মানুষের নাম বেঁচে থাকে। শিশু জন্মগ্রহণ করার পর তার আকিকা করা ও নাম রাখার দায়িত্ব পিতা-মাতার। শিশুর জন্মের পর সপ্তম দিন আকিকা ও নাম রাখা সুন্নত। হাদিসে জন্মের পরপরই নাম রাখার কথা বলা হয়েছে, আবার জন্মের পর তৃতীয় দিবসে নাম রাখার কথাও উল্লেখ আছে। এমনকি হাদিস শরিফে আছে, কিয়ামতের দিন নাম ধরেই মানুষকে ডাকা হবে আল্লাহর দরবারে। তাই শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে হবে সুন্দর নাম।

শিশুর সুন্দর নাম তার জন্মগত অধিকার। শিশুর নাম রাখার অধিকারী হলেন, পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ভাই-বোন, চাচা, ফুফু, মামা-খালা এবং তার আত্মীয়স্বজন। তবে নাম রাখতে হবে সুন্দর, অর্থবহ। সেক্ষেত্রে কোন বিজ্ঞজন বা আলেমের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। কারও নাম ভালো এবং অর্থবহ না হলে তা পরিবর্তন করে রাখা যায়। পবিত্র কুরআনে ১১৪টি সুরা আছে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকটি সুরার নাম আলাদা আলাদা দিয়েছেন এবং হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টির পর সর্বপ্রথম তাকে বিভিন্ন জিনিসের নাম শিখিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, হে আদম! ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সেসবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও জমিনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভালো করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর। (সুরা বাকারা : ৩১-৩৩)

শিশুর নাম যখনই রাখা হোক না কেন, নামকরণের ক্ষেত্রে উত্তম নাম তালাশ করা উচিত। অনেকের খুব দীর্ঘ নাম রাখা হয়, যার কারণে পরবর্তীতে নানা ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। যাদের নাম খুব দীর্ঘ তারা অন্য কোনো দেশে গেলে অনেক সময় পরিচিত নামটি হারিয়ে যায়। সে হিসেবে বলা যায়, একজন শিশুর সুন্দর, অর্থবহ, সংক্ষিপ্ত ও শ্রুতিমধুর নাম হওয়া ভালো। কারণ, সুন্দর অর্থবোধক, মার্জিত, ইসলামি ভাবধারায় উজ্জীবিত নাম রাখলে শিশুর জীবনে তার প্রভাব পড়ে। তাছাড়া আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নিজ নিজ নাম ও বাবার নাম সহকারে। অতএব তোমরা ভালো নাম রাখবে।’ (আবু দাউদ : ৪৮৬৪)

মন্দ নামের পরিণতি ভয়াবহ বলেই তো কোনো মুসলমান এমনকি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান পর্যন্ত কেউই আপন সন্তানের নাম শয়তান, ফেরআউন, হামান, কারুন, শাদ্দাদ, নমরুদ, আবু জাহেল, আবু লাহাব রাখে না বা রাখতে উৎসাহবোধ করে না। প্রখ্যাত তাবেঈ সাইদ বিন মুসাইয়্যাব (রহ.) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তারা দাদা হুজুরের (সা.) দরবারে উপস্থিত হলে রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার নাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘আমার নাম হুজন (বিষণ্নতা)।’ প্রিয়নবী (সা.) বললেন, ‘তোমার নাম পরিবর্তন করে সাহল (সুখী) রাখো।’ তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি তো আমার পিতার দেয়া নাম পরিবর্তন করতে পারি না।’ সাইদ ইবনে মুসাইয়্যাব বলেন, ‘এরপর থেকে বিষণ্নতা আমাদের লেগেই থাকতো।’ (তাসমিয়াতুল মাওলুদ : ১/১৮)

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close