সমগ্র বিশ্ব

বৌদ্ধ মন্দির পৃথিবীর বৃহত্তম কাঠের ভবন

নারা হচ্ছে জাপানের প্রাচীন রাজধানী। নারায় অবস্থিত তোদাইজি বৌদ্ধ মন্দিরটি প্রায় ১৩০০ বছরের পুরোনো। অষ্টম শতাব্দীতে ভারতীয় একজন ধর্মযাজক বোধিসেনা (জাপানিরা বলেন বোদাইসেননা) অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তোদাইজি মন্দিরে আসেন। মহাবুদ্ধদেবের মূর্তি স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি চক্ষুদান পর্ব সম্পন্ন করেন। বর্তমানে এটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত স্থান। মন্দিরটিতে রয়েছে প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার একটি বুদ্ধ মূর্তি , যা পৃথিবীর বৃহত্তম ব্রোঞ্জ মূর্তি। ওয়াল্ডহেরিটেজ

মন্দিরের পাশের জঙ্গলেই সিকা হরিণদের বসবাস। প্রতিদিন সকালে হরিণরা মন্দিরের পথে রওনা হয়। মন্দিরের প্রাঙ্গনটিই হয়ে উঠে এদের প্রধান বিচরণক্ষেত্র। এখানে হরিণদের সর্বত্র প্রবেশাধিকার রয়েছে। কেউ হরিণদের কোন ক্ষতি করে না। কারণ, জাপানীরা মনে করেন, হরিণগুলো- স্রষ্টার আশীবার্দ বাহক। মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল মেশার ফলে এদের মধ্যে বিশেষ বুদ্ধিমত্তার ছাপ স্পষ্ট। কোন কোন হরিণ হয়ে উঠেছে সেলফি এক্সপার্ট। তবে, এদের এখানে আসার মূল কারণ শিবা শেম্বেই নামক এক প্রকার চিপস। যা মন্দির প্রাঙ্গনে ১৫০ ইয়েনে কিনতে পাওয়া যায়। দর্শনার্থীরা প্রাণ খুলে এদের খাওয়ায়। হরিণগুলো মাথা নত করে অভিবাদন জানাতে পটু। এরা ভালো করেই জানে, অভিবাদন সহজেই মানুষের মন গলাবে, সাথে মিলবে বেশি বেশি চিপস। মানুষ এখানে হরিণদের এতোটা কাছে পেয়েছে ভালবাসার ফলস্বরুপ। ভালোবাসায় বিশ্বাস অর্জিত হয়েছে আর বিশ্বাস পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়েছে।

তোদাইজা মন্দিরের বিশাল বুদ্ধ হল হচ্ছে কাঠের একটি কাঠামো যা প্রায় ৫০মিটার উঁচু এবং ৫৭ মিটার চওড়া। বিশাল বুদ্ধ হলের এক স্তম্ভে একটি গর্ত আছে। বলা হয়ে থাকে, সৌভাগ্যের জন্য এই গর্ত দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close