ফিচার

বিশ্বাস

মোশাররফ হোসেন সুজাত:

বিশ্বাস এমন এক অদৃশ্য সম্পদ যা কোটি টাকায়ও পাওয়া যায়না আবার তা অর্জন করতে কোন টাকাও লাগেনা। পৃথিবীতে যত বড় বড় অর্জন তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র বিশ্বাস শক্তির কারণে। বিশ্বাস থেকেই প্রেম ভালোবাসার সৃষ্টি, একজন অজানা অচেনা মানুষ আরেকজন মানুষকে জনম জনমের জন্য কাছে টেনে নেয় শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারণে। পারষ্পরিক সম্পর্ক তৈরির দাপই হচ্ছে বিশ্বাস। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার প্রতি অন্যের বিশ্বাস জন্মাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি তার আপনজন হতে পারবেন না। অনেক সময় পাহাড়সম বিশ্বাসের কারণে মানুষ মৃত্যুকেও হাসি মুখে বরন করে নেয়। প্রেমিক প্রেমিকা একজন আরেকজনকে মনেপ্রানে বিশ্বাস করার পর যখন তাদের চারপাশ থেকে প্রচন্ড বাধা আসে তখন সেই বাধা একসময় হয়তো তাদের জীবনও কেড়ে নেয় তবুও তাদের পবিত্র বিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারেনা। তখন অবলীলায় তারা হাসতে হাসতে নিজেকে বিসর্জন করে নিয়তির কাছে।
বিশ্বাস এমন এক অদৃশ্য মহাশক্তি যার খেয়ানতে বড় বড় দূর্ঘটনা পরাজয় ও ধ্বংসযজ্ঞ সবই ঘটে মানুষের জীবনে। আবার সেই বিশ্বাসের কারণেই মানুষ স্বপ্ন দেখে, স্বপ্নের পথে হাটে, বিশ্বাসের বলে বলীয়ান হয়ে স্বপ্নকে জয়ও করে অসম্ভব কে সম্ভব করে। সাগর নদী পাহাড় পর্বত আকাশ পৃথিবী সব বিশ্বাসের বলেই মানুষ জয় করছে। এককথায় জীবনকে রঙ্গিন করতে অবশ্যই বিশ্বাসের প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে সবার আগে বিশ্বাসী মানুষের প্রয়োজন। মনে রাখবেন কখনো সরলতায় অথবা লোভের মোহে সেই বিশ্বাসকে অপাত্রে বিসর্জন দিবেন না। যদি দেন তাহলে সেই বিশ্বাসের অপব্যবহারে আপনার জীবনের সুখস্বপ্ন আশা প্রত্যাশা সবই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। যাত্রা পথে নেমে আসবে এক অজানা অন্ধকার। যার শেষ পরিনতি হয়তো অনেক ভয়াবহ।

ইতিহাস বলে বিশ্বাসের কারণে গোলামীর জিঞ্জিরে শত-শত বছরের জন্যে আবদ্ধ হয়েছে এক জাতি থেকে আরেক জাতি। নবাব সিরাজুদ্দৌলার চরম বিশ্বাস আর মীরজাফরের বিশ্বাস ঘাতকতার কারণে দু’শ বছর ভারতবর্ষ ইংরেজদের গোলামীতে পরিণত হয়েছিল। শুধুমাত্র বিশ্বাসের সরলতা আর অতিবিশ্বাসের কারণে শতশত তাজা প্রাণ অকালে ঝরছে যুগে যুগে। আবার বিশ্বাস নামক সেই দৈব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কেউ জিরো থেকে হিরোও বনে গেছে রাতারাতি। হয়েছে রতি মহারতি, জীবনকে নিয়ে গেছে তার স্বপ্নময় বসুন্ধরায়, এক অন্যরকম উচ্চতায়।

বিশেষ করে প্রেম ভালোবাসার ক্ষেত্রে বিশ্বাসের প্রয়োজন, সাথে বিশ্বাসী মানুষেরও প্রয়োজন। টাকা আর সিটিজেনের লোভ আর রূপের চাকচিক্য দেখে প্রেম ভালোবাসা যারাই করছে তাদের জীবন হয়েছে দূর্বিষহ। একজন মুদির দোকানি শুধুমাত্র বিশ্বাসকে লালন করে হতে পারে বড় ব্যবসায়ী ও ছোট বড় সকলের আশীর্বাদের পাত্র। আবার একজন শিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত অথবা বড়লোকের চরিত্রহীন অহংকারী ছেলেমেয়ে সেই বিশ্বাসের অপব্যবহারে সকলের চোখে ঘৃণা আর বিতৃষ্ণার পাত্র হয়।
আপনি অতি লোভে একজন রং মানুষের উন্নত দেশের নাগরিকত্ব ও গাড়ি বাড়ি আর চাকচিক্যকে বিশ্বাসের চোখে বরন করে নিলেন। কিন্তু যাত্রা পথের একপর্যায়ে সেখানে প্রেম ভালোবাসা স্নেহ মমতা কিছুই পেলেন না। তখন আপনার কাছে তার সিটিজেনশীপ গাড়ি বাড়ি চাকচিক্য সবই মনে হবে মূল্যহীন ও বিভীষিকাময়। আবার আপনার বিসর্জিত বিশ্বাসের জায়গায় সিটিজেনশীপ গাড়ি বাড়ি কিছুই নেই আছে শুধু পবিত্র প্রেম ভালোবাসা আর পাহাড়সম আন্তরিকতা। ধৈর্য ধরেন একদিন সেখানেই খুজে পাবেন পৃথিবীর সব সুখ। হয়তো আপনিই হবেন একদিন পৃথিবী সেরা সুখী ও সম্মানী মানুষ। সকলে আপনাদের দাম্পত্য জীবন দেখে ঈর্ষা করবে।

সুতরাং বিশ্বাসকে বিসর্জন করবেন শুধু বিশ্বাসের জায়গায়। যে আপনাকে তার চাইতে বেশি বিশ্বাস করে সম্মান করে প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসে।আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে অনেক বড় হওয়ার। আপনিও ঠিক ততটাই তাকে বিশ্বাস করবেন, সম্মান করবেন, মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসবেন, দেখবেন একদিন সে শুধু আপনারই। পৃথিবীর কোন শক্তি তাকে আপনার কাছ থেকে দূরে রাখতে পারবে না। যে যাই বলুক আপনাদের পবিত্র ভালোবাসায় কোন ফাটল ধরাতে পারবেনা। দিন শেষে দেখবেন আপনারাই আপনাদের।
জীবন চলার পথে মান-অভিমান হতেই পারে সেটাকে হুটকরে অবিশ্বাসের পর্যায়ে নিবেন না। নিজেকে বিশ্বাসের ভিতর রেখেই সমাধানের চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন মানুষ হিসাবে সবারই কিছুনা কিছু দোষ গুণ আছে। বরং সেটা না থাকলে আপনি মানুষ নয় ফেরেস্তা।
অথচ তাকে সন্দেহ করে আপনি বিষয়টিকে যেভাবে রং ভেবে মহাভারত অসুদ্ধ মনে করছেন আসলে একটুও তা না। আর তখন সেই অবিশ্বাসের কারণই একদিন হয়ে উঠে অতিবিশ্বাসের সম্পর্ক ভাঙার মূল কারণ। যদি বিশ্বাসের মাঝে সন্দেহ সংসয় অথবা লোভ লালসা আর অধর্য্য কাজ করে, তাহলে অবশ্যই সে বিশ্বাস হবে প্রতারিত ও ছলনাময়ী।
শুধু রূপের চাকচিক্য, দামী চাকুরী, দামী গাড়ি বাড়ি আর টাকার পাহাড়ে অন্ধ হয়ে অথবা অতিসরলতায়ও কখনো বিশ্বাসকে অপাত্রে বিসর্জন দিবেন না। লোভ আর টাকার পাহাড় কখনো বিশ্বাস আর ভালোবাসার বিকল্প হতে পারেনা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
Close