সোনার বাংলাদেশ

এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে সিসিক

দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকায় ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে সিটি কর্পোরেশন। একই সাথে একটি প্রতিষ্ঠানের মালামালও জব্দ করা হয়েছে। এ তিন প্রতিষ্ঠানে পরিত্যক্ত টায়ার এবং টিউবে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে; এছাড়া পূর্ণ বয়স্ক মশাও পেয়েছে অভিযানিক দল।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে এডিস মশা নিধনকল্পে পরিচালিত সিসিকের অভিযানে এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। পরে পরিত্যক্ত টায়ারে লার্ভা পাওয়ার দায়ে ঢাকা মটরসকে ৫০ হাজার এবং টায়ার মার্কেটকে ১২ হাজার জরিমান করা হয়।। এছাড়া পুরাতন টায়ার, টিউব সহ পানি জমে থাকার কারনে ভাইভাই মটরস নামের প্রতিষ্ঠানের মালামাল জব্দ করা হয়।

সিটি কর্পোরেশনের অনুসন্ধানে পাওয়া এডিস মশার লার্ভা নতুন করে সন্ধান পাওয়ায় নগর জুড়ে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু আতংক। নগরীতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার না ফেলা, টায়ার, টিউব, ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার না করলে এভাবে অভিযান পরিচালনা করে অর্থদন্ড করা হবে বলে জানান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

অভিযান শেষে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। জানান সিসিকের ২৫,২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এই ওয়ার্ডগুলো অতিক্রম হয়েই নগরীতে প্রবেশ করতে হয়। এখানে ট্রেন স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল থাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য টায়ার টিউবের দোকান। এসব দোকানের সামনে স্তুপ আকারে থাকা গাড়ির টায়ারের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে পূর্ণবয়স্ক মশার সন্ধানও মিলেছে। এ থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, এডিস মশার লার্ভা এই ওয়ার্ডগুলোর বিভিন্ন স্থানে থাকতে পারে। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস সহ সকল প্রকার মশা নিধনে অভিযান অব্যাহত রাখবে।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী এডিস মশা ও লার্ভার সন্ধান পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, মশার ডিম থেকে লার্ভার সৃষ্টি হয়। লার্ভার পর তিনটি ধাপে ৮-৯ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপ নেয়। মশা নিধনে শুধু ওষুধ দিলে হবে না সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এসময় সিসিকের প্যানেল মেয়র-১ তৌফিক বক্স লিপন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন, জেলা কীটতত্ববিদ মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক জেলা স্বাস্থ্য তত্বাবদায়ক আক্তারুজ্জামান, সিসিকের প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অ্যান্টোমোলজি টেকনিশিয়ান সহ সিসিকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close