ফিচার

বিষন্নতার ভয়াল গ্রাস

সালেহ আহমদ খসরু

বিষন্নতায় কোন গাছের তলে কিংবা নদীর তীরে অথবা শহুরে জীবনের পার্ক, এমনকি কোন রেস্তোরাঁর কোণে একা বসে বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে হাল্কাচ্ছলে কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে সময় পার করতে জানা যায় এককালের তরুণ তরুণীদের জীবনের গল্প থেকে। আবার বাউলা সেজে মেঠোপথের পথিক-বর এর গল্পও আছে, তদুপরি হাওরের মাঝে সাঁঝের বেলায় বিষন্নতা কাটাতে ‘মাঝি বাইয়া যাও’ গানের সুর তুলে তরুণ নাইয়া বেয়ে যায় ডিঙি বা কোষা নৌকা, সে কাহিনীও অজানা নয়, বাঙালির জীবনচক্রে সে আমাদের গল্প উপন্যাস কবিতায় বিস্তৃত আছে!
কিন্তু চমকে দেয়া পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে দেশের অধিকাংশ মানুষ আজ বিষন্নতায় ভুগছে তন্মধ্যে খোদ রাজধানীতে জনগোষ্ঠীর ৭১% শতাংশ লোক আজ বিষন্ন! ঠিক এই বিষয়টি আজ আমাকে হতচকিত না করেও অদ্ভুত এক বিষন্নতায় চেপে বসেছে! আরও বিষন্ন হয়ে পড়ছি স্বাধীনতার ৫০ ছুঁতে আর ক’কদম বাকি অথচ সেই তিমিরেই রয়ে গেল স্বাদ ও সাধ্যের বিস্তর ফারাক! প্রকৃতিও যেন বিষন্ন, না হলে এইযে চির বিদ্রোহী প্রেমিক কবি নজরুল-রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ দাশ সহ রফিক আজাদ ও শত কবির প্রিয় শরতকাল এসে যাবার পথে কিন্তু কেউ-কি দেখেছি কাঁশফুলের দোদুল দোলা! না মন নেচে উঠেছে পাখির গানে! সব যেন কেমন অস্থির আর গন্তব্যহীন ছুটে চলা! নয় কি? অথচ শরতের পরতে কতো প্রেম আঁছড়ে পড়ে, কতো বুক উষ্ণ হয়ে বলে – ঐ আকাশের যে তাঁরা সেই মিটিমিটি ঝলকানিতেই ঝরে আমার প্রিয়ার কুল ছাপানো হাসি! আপনি বুকে হাত দিয়ে বলুন – ক’জন শুনেছেন এবার এমন কথা!! মনে হয় বলার কিছুই নেই বরং সেই প্রেয়সী স্ত্রীর বকুনি ক’টা হজম করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন-সেই হিসেব কষতে গেলে সাদা পাতায় কালো হরফ কুলোয় কি-না তাই ভাবছি!
এবার জানার চেষ্টা করি মানুষ বিষন্ন হয় কেন! অসংখ্য কারণ হতে আপাতদৃষ্টিতে দুটি কারণ যদি আমলে নেই তবে এক হচ্ছে প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির অমিল! দুই – মানুষের বার্ধক্য হলে মৃত্যু চিন্তা কারো কারো ক্ষেত্রে বিষন্নতা জন্ম দেয়! প্রত্যাশা সেটি যেমন বস্তুবাদের সাথে দা›িদ্বক অবস্থান, আবার পারিবারিক মমতায় জড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে অনাহুত ঝগড়াঝাটি থেকে তীব্র বিষন্ন হয়ে উঠে মানুষ। ভাইয়ে-ভাইয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং খুব নিকট বন্ধু বা প্রেমিক জুটির অমিল কিংবা আকাঙ্খার সাথে ফারাক হেতু এই মানসিক চাপ নিতে না পেরে বিষন্নতায় পেয়ে বসে এবং তা-হতে কোন মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়, যা সমাজের মধ্যে চরম নৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তবে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে এটুকু নিঃসন্দেহে বলা যাবে মানুষ তার কর্মযজ্ঞের ফসল ঘরে এনে যখন হিসেব মিলোতে হিমসিম খাচ্ছে, তখন সে বিষন্ন হয়ে ক্ষুব্ধ পর্যন্ত হয়ে উঠে! এই যেমন ধরি বাজারে পেঁয়াজ, সবজী, চাল ও নুন (লবন) নিয়ে যে কান্ড চলছে তা মানুষের মাঝে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে সেটি কতোখানি প্রভাব পড়ছে পারিবারিক শান্তিপূর্ণ অবস্থানের সে পরিসংখ্যান আমাদের বিবিএস করেন কি-না বা করে থাকলেও তার আদ্যোপান্ত সরকারের কাছে পেশ করেন কি-না অথবা করলেও তা অনুধাবন করার মতো রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদের প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দেশের সাধারণ জনতা মনে করেনা এবং সত্যিকার দার্শনিক ভিত্তি আমাদের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে গড়ে উঠেছে কি-না তা-ও প্রশ্নবোধক বলেই মনে হয় দু-চারজন ব্যতিক্রম ছাড়া। একটি দেশে তার বাজারে নিয়মিত ১৫/২০ টাকার পেঁয়াজ যদি এক দুই লম্ফ দিয়ে ২০০ টাকা অতিক্রম করে, চাল যদি পঞ্চাশের ঘরে উঠানামা করে, সহজ করে খাওয়া যায় আলু যখন ৬০ হতে ৮০তে আসা যাওয়া চলছে, সর্বোপরি লবন যখন বাজারে গুম হয়ে যায় গুজবের উপর ভর করে, তখন বুঝতে আর অসুবিধা হবার কথা নয় মানুষ অস্থির ও বিষন্ন!
১৮৪৫ সালে আয়ারল্যান্ডে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল এবং সেটি ১৮৪৯ অবধি সেই দেশকে অস্থির ও রাজনৈতিক রুপ পরিবর্তন করে দিয়েছিল! তখন দুর্ভিক্ষের প্রলয়ঙ্কারী আঘাতে প্রায় লÐভÐ হয়ে গিয়েছিল আইরিশদের সামাজিক ও রাজনৈতিক চরিত্র। প্রায় পাঁচ বছরের যাতাকলে দশ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে, তন্মধ্যে আত্মহননের সংখ্যাও কম নয়। এবং এটি বিষন্নতা থেকেই হয়েছে বলে ধারণা করা যায়, কারণ মানুষ যখন তার সামাজিক মর্যাদা হারিয়ে বসে তখন খেই হারিয়ে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্ম দেয়। ১৮৪৫ এর আয়ারল্যান্ড থেকে যদি আজকের বাংলাদেশে ফিরে আসি তবে পরিসংখ্যানের প্রতিই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করছি – শুধু কি ৭১% না-কি ৯০% মানুষ বিষন্ন হয়ে আছে বাংলাদেশের সব নগর ব্যবস্থার চাপে এবং দেশের জনসংখ্যার আসল চালিকাশক্তি তরুণ সমাজ এর প্রায় দশ কোটি ফেসবুক ইউটিউব সহ নানান এপসে ডুবে থাকছে প্রায় সারাক্ষণ, আর সেই থেকে যে প্রাণশক্তি ক্ষয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন তার খবর না রাখে ঘর-না আছে সরকারী নজরদারি! দুর্মুখেরা বলে নজরদারি আছে কেবল বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী কার কথা বলছে অথবা কোন শক্ত অভিমত দিল কি-না সেই খোঁজ নিতে সিদ্ধহস্ত সংশ্লিষ্ট মহল। প্রয়োজনে এই ধারা ও-ই ধারা দিয়ে অবদমন করতে হবে বিরুদ্ধ মতের! অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই ছিল সকল মতের সহাবস্থান ও শোষণহীন সমাজ বিনির্মানে অঙ্গিকার এবং গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র! অথচ একটি রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যদি সেই স্বপ্ন পুরণে স্থবিরতা জীর্ণতা ও কলঙ্কিত প্রতিচ্ছবি দেখে মুক্তমনা মানুষ বা অতিসাধারণ জনতা তখন সে বিষন্ন হবে নাতো প্রসন্ন হবে এটা ভেবে আমরা আর কতো বিষন্ন হবো বলুন!
শেক্সপিয়রের হ্যামলেট সম্পর্কে শিক্ষিত সমাজ সহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সকলেই অবগত। বিষন্নতার কারণেই হ্যামলেট তার পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে বিলম্বের কারণ হয়! এমনকি ’হ্যামলেট’ প্রেমিকা ‘ওফেলিয়ার’ প্রতি ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেললে ওফেলিয়া আত্মহত্যা করেন। অথচ হ্যামলেট নিজে সাহসী বিচক্ষণ ছিলেন কিন্তু তার অবসন্ন মন তাকে বিষন্ন করে তুলেছিল বলেই প্রতিশোধ নিতে যথেষ্ট দেরি হয়েছিল, তাই প্রমাণ হয় বিষন্ন মন হলে শক্তি যতই বেশি হোক লক্ষ্য উদ্দেশ্য সফল হয়না বা বিলম্বিত হতে বাধ্য।
‘ওফেলিয়া’ ইতিহাস প্রায় চারশ বছরের এবং এ নিয়ে নানা বিতর্ক আছে বা চলমান কিন্তু এটি দিব্য-সত্য ঢাকা আজ বিশ্বের এক হতে তিনে উঠানামা করা বায়ু দুষিত নগরী! তাই এমন একটি নগরীর বাসিন্দাদের বিষন্নতা হবে বৈকি! মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ করে জাতিসত্তা আজ বিভাজিত, তাই বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত কোনটা আমার বা আমাদের নয় ভাবতে গিয়ে বিষন্ন হয়ে যাচ্ছে! রাষ্ট্রীয় বন্ধু পুলিশ চৌকিতে একটি অভিযোগ নিয়ে যেতে নাগরিক ইতস্তত করে, আর যদিও যায় তখন ঘরে ফিরে এসে ভাবে এই কি তবে মুক্তিযুদ্ধের প্রাপ্তি! তখন দাঁত চেপে আপনমনে বিড়বিড় করে-কি চেয়েছি আর কি পেলাম! দেশের পাঁচ কোটি কিশোর কিশোরী ইন্টারনেট ঘেঁটে অবসন্ন হচ্ছে সেদিকে খেয়াল নিতে যাদের উচিৎ সেই পিতামাতার দায়িত্ব পালন কতটুকু পর্যাপ্ত সেই কাউন্সিলিং কি সমাজ বিজ্ঞানীরা দিচ্ছি! না রাজনৈতিক কোন সহমর্মিতা আছে এই বৈতরণী পার করে একটি মেধাবী জাতি উপহার দিতে রাজনৈতিক দলগুলির?
এদিকে মহেশখালী উপজেলায় প্রায় পনেরোর অধিক কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠছে সেদিকে খেয়াল নেবার মানসিকতা সম্পন্ন বুদ্ধিজীবী সরব নেই বরং স্থানীয় মানুষের শিক্ষার অভাবে একশ্রেণীর লুটেরা মানুষের সহায়তায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে ঐ অঞ্চলে তা ক’জন বলছি!! অথচ জলজ প্রাণ তথা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুরারোগ্য ব্যাধি সহ ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে স্থানীয় মানুষের জীবন বিকলাঙ্গ থেকে প্রাণহানি ঘটবে ব্যাপক হারে সে হিসেব করছিনা। জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই কয়লার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু কে করছে ভ্রæক্ষেপ, কারণ সরিষায় ভুত হলে এটি তাড়ানোর তাগিদ আসবে কেন? সুন্দরবনের দশ মাইলের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে না তোলার যে আন্দোলন চলছে কিন্তু মহেশখালী নিয়ে প্রায় নিশ্চুপ সেই আন্দোলনের পুরোধা সকল, তা কেন!? আবার এইযে উন্নয়ন প্রকল্পের নেতিবাচক দিকের কথা বলা হচ্ছে এইজন্য আমাকে না ফেসে যেতে হয় যেখানে সরকার প্রধান বলেছেন যারা উন্নয়ন বিরোধী (তাঁর ভাষায়)কথা বলবেন তাদের তিনি দেখে নেবেন এবং সেইসব শুনে ও ভেবে মন গভীর বিষন্ন হতে বাধ্য।
বড় ক্যানভাসে সব চিত্র তুলে না এনেও বলা যায় প্রতিদিন সড়কে যত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন তা দেখেও কি আমি আপনি বিষন্ন হবো না!! প্রতি বছরের হিসেব করলে গড়ে পনের হাজার লোক কেবল গাড়ির চাকায় পিষ্ট হচ্ছে তা অনুধাবণ করে হাটতে গিয়ে যদি বিষন্ন হয়ে ম্যানহোলের ঢাক না না থাকার কারণে গভীর নর্দমায় পড়ে জীবন খুইয়ে ফেলে শহুরে নাগরিক তবে কি তা চিন্তার হেতু আরও বাড়িয়ে দেয়না!!
শিশুদের স্কুলে যাবার সরকারী বয়স-সীমার আগেই কিন্ডারগার্টেন স্কুলে তিন বছরের শিশু জীবনের পথচলা শুরু করে দেয়, অতঃপর বইয়ে গাদাগাদি করে করে বেড়ে উঠার সময়ে ঘাড় ব্যাথা কোমর ব্যথা নিয়ে অজস্র তরুণ তরুণী অকালে কুঁজো হয়ে হাটতে শুরু করে তা দেখে-বুঝেও দায়িত্বশীল মানুষগুলো অমানবিক নিষ্ঠুর হয়ে নিজেদের বাচ্চাদের ইউরোপ এর বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা করায়, অথচ অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতি তাচ্ছিল্যের বেড়াজাল না ভেঙে পাশ কাটিয়ে আখের নিজের জীবন রাঙিয়ে তুলতে নুন্যতম বিবেচনাবোধের প্রয়োগ করে না রাজনৈতিক দায়িত্বশীল এবং সেইসব দেখেও কি আমাদের মন বিষন্ন হবার কথা নয়!!
ডাক্তার মহাশয়েরা দিনের পর দিন রোগী দেখতে গিয়ে তাদের দর্শন ফিস বাড়িয়ে আটশো হতে পনেরশো এবং কতক ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেখার জন্য আরও বাড়তি অর্থ নিচ্ছেন তা কি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের কোনো নজরদারি আছে! তবে কি এই সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি বলতে পারি, আর যদি বলতে না পারি সে কারণে মন যদি খারাপ হয় সেই দায় কার!
বাঙালী বা বাংলাদেশী জাতি হিসেবে যখন দেখি বিশাল ভারত এর উপর নির্ভর করবে আমি পেঁয়াজ খাব না ছেড়ে দিব, ডাল খাব না জল খাবো ভাত আমার খাদ্যতালিকায় রাখবো কি-না, তখন মনে পড়ে যায় ১৯১০ সালে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট পরফিরিও ডিয়াস যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বলেছিলেন –So far to God so closed to US তেমনি আমরাও ভারতের কাছে যেতে গিয়ে আল্লাহ পাক বা ঈশ্বরের কাছ হতে বহু দুরে চলে যাচ্ছি কি-না তা ভেবে দেখার এখনি উৎকৃষ্ট সময়। না হলে এই বিষন্নতা আমাদের যদি আত্মহননের জাতিতে পরিণত করে তবে আগামী প্রজন্মও এই বিষন্নতা হতে মুক্তি পাবে বলে মন সায় দেয়না। বিষন্নতার কথা লিখতে গিয়ে দেখছি কলমও আর চলতে চাইছেনা, তাকেও বিষন্নতায় পেয়ে বসেছে! কিন্তু আমি কি করবো, কলম মহাশয়ের বুঝতে কেন অসুবিধা হচ্ছে যে- বিষন্ন জাতির এক সন্তান হয়ে আমি এর বাইরে যাই কি করে! এই যেমন স্বাধীন দেশের সীমান্তের মৃত্যু নিয়ে লিখতে গেলে ক্ষোভ জন্ম নিয়ে কতো কিছুই জ্বালিয়ে দিতে মন চাইবে কিন্তু আমিতো সেটি চাইতে পারিনা, তখন অনাহুত বা আপনজন কেউ বলে উঠবেন-আপনিতো ভাই শান্তিপ্রিয় মানুষ, কেন সেদিকে যাচ্ছেন! তাই আমার বিনীত জিজ্ঞাসা কলম মহাশয়কে-আমাকে একটি জাতীয় ইস্যু দিন যেখানে বিষন্ন নয় অথচ আসন্ন বলে তা-তা ধেই ধেই নেচে গেয়ে উঠতে পারি।
তাই নাকে রুমাল, টিস্যু বা মুখে হাত চেপে যদি স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং শ্রমিক পেশাজীবি মানুষ তার নগরজীবন অতিবাহিত করে বা বিষন্ন চিত্তে হাটতে গিয়ে ম্যানহোলে পড়ে প্রাণ কিংবা হাত-পা খোয়াতে হয় তখন কি বিষন্ন হবো না!! সর্বোপরি হৃদয় চেপে ধরে বেশিদিন বাঁচাও যায়না,তখন মরতে বা মারতে উদ্যত হয়ে একদিন সব নাগরিক যদি একত্রিত হয়ে চিৎকার করে বলে বসে – ফিরিয়ে দাও আমার সেই অরণ্যে তখন হয়তো বড় দেরি হয়ে যাবে!!

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close