সোনার বাংলাদেশ

সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) এর উদ্যোগে এবং সিলেট চেম্বার এর সহযোগিতায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় চেম্বার কনফারেন্স হলে বিইএফ এর সেক্রেটারী জেনারেল ফারুক আহমদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মোঃ শোয়েব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে সিলেট চেম্বার নিজস্ব অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি পরিকল্পিত ও সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অবশ্যই পূরণ করতে পারবো। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশন চলছে। এই রেভোলিউশনে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পেরেছে, যা এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশকে কয়েকধাপ এগিয়ে রাখবে। তিনি জানান, সিলেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আমরা অচিরেই সিলেট বিজনেস সামিট আয়োজন করতে যাচ্ছি। এই সামিটের মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস। তিনি বলেন, সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। কৃষি খাতের উন্নয়নে আমরা সিলেটের প্রত্যেকটি উপজেলায় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি খাতে সিলেটকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সিলেট চেম্বারের বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে অনেকগুলো মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসডিজি অর্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে বিইএফ এর সেক্রেটারী জেনারেল ফারুক আহমদ বলেন, বিইএফ বা বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন বাংলাদেশের চাকুরী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ, শ্রমিক মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবন্ধী লেবার ফোর্সের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সম্মিলিতভাবে এসডিজি বাস্তবায়নে কাজ করে থাকি। তিনি বলেন, এসডিজি কোন একক বিষয় নয়। এটি হলো জাতিসংঘ কর্তৃক ২০১৫ সালে ঘোষিত একটি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, যেটি বাস্তবায়নে বিশ্বের সকল দেশ একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, শ্রমিকের নিরাপত্তা, নারী ও শিশু অধিকার, স্যানিটেশন, উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু এসব বিষয়গুলোই এসডিজি’র অন্তর্ভুক্ত। এসডিজি’র আওতায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অনুন্নত দেশগুলোকে বিভিন্ন ধরণের সাপোর্ট প্রদান করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে প্রচুর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনাতে প্রাইভেট সেক্টরকে খুব কমই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অনেকে এ বিষয় সম্পর্কে অবগত না থাকায় পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যদি শ্রমিকের কোন অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় সেটাও এসডিজি’র অন্তর্ভুক্ত। তিনি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

কর্মশালায় এসডিজি এর ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) এর প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজা সরকার ও ইকো ম্যাজেমেন্ট কনসালটেন্সি লিমিটেড এর লিড কনসালটেন্ট ফেরদৌস হাসান। তারা এসডিজি বাস্তবায়নে প্রাইভেট সেক্টর ও সরকারের পক্ষ থেকে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে ব্যাপারে ব্যাপকভাবে আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। কর্মশালায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন সাহা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক আব্দুর রহমান, প্রাক্তন সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ আলম, প্রাক্তন পরিচালক মুজিবুর রহমান মিন্টু, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারী সন্তোষ কুমার দত্ত ও সিলেট চেম্বারের সদস্যবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তি

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close