সোনার বাংলাদেশ

গতবারের চেয়ে এবার শিক্ষার্থী বেড়েছে

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে গতবারের চেয়ে এবার এস.এস.সি পরীক্ষায় ২ হাজার ৮৯৫ শিক্ষার্থী বেড়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ছাত্রী বেড়েছে ২ হাজার ১৪০ জন। কেবল পরীক্ষার্থী নয় এবার বেড়েছে ১৬ বিদ্যালয় এবং ১৫ পরীক্ষা কেন্দ্র। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৭ জন। গতবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখার ১৩ হাজার ৪৭২ জন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে সারা দেশের ন্যায় সিলেট বিভাগের ৪ জেলার ১৪৬ কেন্দ্রে এস.এস.সি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: কবির আহমদ জানিয়েছেন, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্যে প্রশাসনের পাশাপাশি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব মনিটরিং টিম থাকবে। সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্নের জন্যে তিনি পরীক্ষার্থী শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ বছরের এস.এস.সি পরীক্ষা শুরু হবে। মাঝে বিরতি দিয়ে পরীক্ষা চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৯ হাজার ৯৪৮ জন এবং ৬৬ হাজার ৪১৯ জন হলেন ছাত্রী। গতবারের পরীক্ষার্থীদের চেয়ে এবার ছাত্র বেড়েছে ৭৫৫ জন এবং ২ হাজার ১৪০ জন ছাত্রী বড়েছে। গতবার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৪৯ হাজার ১৯৩ জন ও ছাত্রী ৬৪ হাজার ২৭৯ জন। গতবার মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৮৯৬টি। এবার বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১২ টি। গতবার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ১৩১ টি। এবার পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৬টি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলার এবারের মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৮ হাজার ৮৪৬ জন ও ২৪ হাজার ৮৮০ জন হলেন ছাত্রী। হবিগঞ্জ জেলার মোট পরীক্ষার্থী ২৩ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৯১৯ জন ছাত্র ও ১৩ হাজার ২২৮ জন হলেন ছাত্রী।
মৌলভীবাজার জেলার মোট পরীক্ষার্থী ২৪ হাজার ৪৪৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ হাজার ৯০৪ জন ও ১৪ হাজার ৫৪৩ জন হলেন ছাত্রী। সুনামগঞ্জ জেলার মোট পরীক্ষার্থী ২৪ হাজার ৯৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র হলেন ১১ হাজার ২০৭ জন এবং ছাত্রী হলেন ১৩ হাজার ৭৬৪ জন।
পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট বোর্ডে সর্বোচ্চ পরীক্ষার্থী, পরীক্ষা কেন্দ্র ও বিদ্যালয় হচ্ছে সিলেট জেলায়। মৌলভীবাজার জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্র সর্বনি¤œ সর্ব নি¤œ বিদ্যালয় হবিগঞ্জ জেলায়।
সিলেট জেলায় গতবার বিদ্যালয় ছিল ৩৪৪টি এবং পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ৫০টি। এবার বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৪৮টি এবং ৫৮ টি পরীক্ষা কেন্দ্র। এই তুলনায় এবার সিলেট জেলায় ৪টি বিদ্যালয় ও ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় গত বছর বিদ্যালয় ছিল ১৫৯ টি এবং পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ২৯টি। এবার বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬৪ ও পরীক্ষা কেন্দ্র হচ্ছে ৩১টি। গতবারের তুলনায় এবার হবিগঞ্জ জেলায় ৫ বিদ্যালয় ও ২ পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় গতবার বিদ্যালয় ছিল ১৮৪ টি ও ২৩টি পরীক্ষা কেন্দ্র। এবার বিদ্যালয় ১৮৫টি ও পরীক্ষা কেন্দ্র ২৬টি। গত বছরের তুলনায় এবার মৌলভীবাজার জেলায় ১টি বিদ্যালয় ও ৩টি পরীক্ষা কেন্দ্র বৃদ্ধি পেয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় গতবার বিদ্যালয় ছিল ২০৯ টি ও পরীক্ষা কেন্দ্র ২৯টি। এবার বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২১৫টি ও পরীক্ষা কেন্দ্র হচ্ছে ৩১টি। গতবারের তুলনায় এবার সুনামগঞ্জ জেলায় ৬টি বিদ্যালয় ও ২টি পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাংলা (আবশ্যিক) ২য় পত্র, ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ইংরেজি (আবশ্যিক) ১ম পত্র, ৯ ফেব্রুয়ারি রোববার ইংরেজি (আবশ্যিক) ২য় পত্র, ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার গণিত (আবশ্যিক), ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার গার্হস্থ্য বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়)- কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়), ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, খ্রিষ্ট ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার পদার্থ বিজ্ঞান, (তত্ত্বীয়), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভূগোল ও পরিবেশ, ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রসায়ন (তত্ত্বীয়), পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ব্যবসায় উদ্যোগ, ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার হিসাব বিজ্ঞান, ২৩ ফেব্রুয়ারি রোববার বিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়), ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জীব বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), অর্থনীতি, ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮০ হাজার ১৬২ জন পাশ করেন। জিপিএ-৫ অর্জন করেন ২ হাজার ৭৫৭ জন। পাশের হার ছিল ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ২৩২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৯২৮ জন অংশ নিয়ে ৭৬ হাজার ৭১০ জন পাশ করে। জিপিএ- ৫ অর্জন করে ৩ হাজার ১৯১ জন। পাশের হার ছিল ৭০ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close