ইংল্যান্ডএডিটর্স পিকসখবরটপ স্টোরিজ

মেগান যেসব নিয়ম ভঙ্গ করে সমালোচিত হয়েছিলেন

যুক্তরাজ্যের ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল গত ৮ জানুয়ারি আকস্মিক রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়াও তাদের ওই ঘোষণায় স্বনির্ভর জীবনযাপন করতে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি কানাডায় বসবাসের কথা জানানো হয়। এই নিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারে তোলপাড় শুরু হয়। তাদেরকে ওই সিদ্ধান্ত থেকে ফেরাতে গত ১৩ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের নরফক কাউন্টির স্যান্ড্রিংহ্যাম প্রাসাদে হ্যারির সঙ্গে বৈঠক করেন রানি এলিজাবেথ ও তার উত্তরাধিকারীরা। বৈঠকে রানি হ্যারি ও মেগানের নতুন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তার ‘পূর্ণ সমর্থন’ থাকার কথা জানান।

তবে রানি জানান, তিনি চাইছেন হ্যারি-মেগান রাজপরিবারের সদস্য হিসেবেই পুরো সময় দায়িত্ব পালন করুক। এরপরও হ্যারি-মেগান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসায় গত ১৮ জানুয়ারি বাকিংহাম প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাজ্যের ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল তাদের রাজকীয় উপাধি আর ব্যবহার করতে পারবেন না। চলতি বছরের বসন্ত থেকেই এটি কার্যকর হবে।

তবে রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার আগে বহুবার ব্রিটিশ রাজ পরিবারের নিয়ম ভঙ্গ করেছে মার্কিন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী মেগান মার্কেল। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের নির্দিষ্ট কোনো নিয়মের বই না থাকলেও চিরায়ত কিছু বিষয়ে নিজের ফ্যাশন ও ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন মেগান। এ কারণে যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোতে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন তিনি। অনেকের ধারণা ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ক্রমাগত হয়রানির কারণেই রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন মেগান।

নারীবাদী হিসেবে পরিচিত মেগান যেসব নিয়ম ভঙ্গ করে সমালোচিত হয়েছিলেন সেগুলো হলো-

১. হ্যারি-মেগান দম্পতির সন্তান আর্চির নামকরণের অনুষ্ঠানে দৃষ্টিনন্দন ডায়োর ড্রেস পরেছিলেন মেগান। কিন্তু এর আগে নবজাতকদের নামকরণ অনুষ্ঠানে এমন জাকজমকপূর্ণ পোশাকে আর কাউকে দেখা যায়নি।

২. ব্রিটিশ রাজ পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী নারীরা সাধারণত গোলাপি রঙের নেইল পলিশ দিয়ে থাকেন। তবে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে মেগান কালো নেইল পলিশ দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী কালো রং শোক প্রকাশের জন্য।

৩. সাধারণত ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্যরা অন্য কোনো দেশে রাজকীয় ভ্রমণে গেলে জুতা পরে বাইরে বের হন এবং সর্বক্ষণের জন্য পায়ে জুতা থাকে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে রাজভ্রমণে গিয়ে জুতা খুলেই বন্ডি সৈকতে হেঁটে বেরান মেগান।

৪. যেখানে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ রাজ পরিবারের নারীদের জন্য স্কার্টস এবং ড্রেস নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন সেখানে কালো প্যান্টস্যুট পরে ‘দ্য ওয়েল চাইল্ড অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে যান মেগান, রাজ পরিবারের শোক প্রকাশের রং কালো তা জানার পরও।

৫. ভিক্টোরিয়া থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হ্যামিল্টন চ্যারিটি অনুষ্ঠানে পা-মোজা না পরেই যোগ দিয়েছিলেন মেগান। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের নারীরা সাধারণত পা-মোজা পরেই কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি।

৬. রাজকীয় বিয়েতে মেগান নিজেই গাউন ধরে হেঁটে চলে গেছেন। নিজের টায়রা নিজেই পছন্দ করেছেন। আর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না করেই সমাপ্তি টেনেছিলেন।

৭. রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুসারে যেকোনো পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হ্যাট পরা বাধ্যতামূলক। কিন্তু হ্যাট ছাড়াই তাকে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে হাসিমুখে আলাপ করতে দেখা গেছে।

৮. নিয়ম অনুযায়ী রাজপরিবারের সদস্যরা হাতাকাটা পোশাক পরতে পারবেন না। কিন্তু তাকে একাধিকবার ‘অফ শোল্ডার’ পোশাকে জনসম্মুখে আসতে দেখা গেছে।

৯. রাজপরিবারের অলিখিত নিয়ম অনুসারে, রাজপরিবারের সদস্যদের পরিপাটি করে চুল বেঁধে জনসম্মুখে আসতে হবে। মেগান প্রায়ই সাধারণভাবে চুল খোঁপা করে বেরিয়ে পড়েছেন।

১০. এ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজ পরিবারের কোনো নারীকে জিন্স পরে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। কিন্তু টরেন্টোর ইনভিক্টাস গেমসে রিপড জিন্স পরে খেলা উপভোগ করতে দেখা গেছে মেগানকে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close