ধর্ম

আল্লাহর সামনে নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করার নামই বিনয়

মুমিনের জীবনে বিনয় অপরিহার্য। মহান প্রভুর সামনে মানুষ নিজেকে যতটা তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র জ্ঞান করবে তিনি মান-সম্মান ততটা বাড়িয়ে দিবেন। আল্লাহর সামনে নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করার নামই বিনয়। বান্দা খাঁটি মনে বিশ্বাস করবে, আমার যা কৃতিত্ব এর কিছুই আসলে আমার নয়, এসবই আমার প্রতি আমার আল্লাহর অনুগ্রহ।

[৩] দুনিয়াতে প্রাপ্ত সবকিছুকেই যখন আল্লাহর নিআমত হিসেবে মেনে নেওয়া হবে, তখন অনিবার্যভাবেই সে হয়ে উঠবে কৃতজ্ঞ ও বিনয়ী। আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগিতে যখন বিনয় ও কৃতজ্ঞতার পরশ থাকবে, সব প্রাপ্তিকেই যখন সে কেবলই আল্লাহর দান বলে মেনে নেবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে মুক্ত থাকবে অহংকার ও বড়াই থেকে। অবচেতনভাবেই তার আচার-আচরণ হবে বিনয় ও নম্রতায় পূর্ণ।

[৪] বিনয় যার যতটা হাসিল হবে, বান্দা হিসেবে সে ততটাই সফল। আল্লাহ পাকের বিধিবিধানের সামনে সে ততটাই নিজেকে সঁপে দিতে পারবে। শোকর আর কৃতজ্ঞতায় ততটাই আপ্লুত হবে তার হৃদয়-মন। বাহ্যত নিজের শ্রমে-ঘামে কিংবা অর্থ-মেধায় অর্জিত সফলতাকেও যখন সে আল্লাহর দান বলে বিশ্বাস করবে, তার স্তরে উন্নীত নয় এমন কাউকে দেখে তখন তার মনে অহংকারের পরিবর্তে যোগ হবে কৃতজ্ঞতার এক নতুন মাত্রা।

[৫] রাসূল বলেন, আমি আদম-সন্তানের সর্দার, তবে এতে বড়াইয়ের কিছু নেই; কেয়ামতের দিন আমার কবরের মাটিই প্রথম সরানো হবে, তবে এটা বড়াইয়ের কোনো বিষয় নয়, আমিই প্রথম সুপারিশ করব, আমার সুপারিশই প্রথম গৃহীত হবে, এতেও অহংকার করার কিছু নেই, কেয়ামতের দিন ‘হামদে’র পতাকা আমার হাতে থাকবে, তবে এতেও কোনো বড়াই নেই। -সুনানে ইবনে মাজাহ

[৬] দয়াময় আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হতে চাইলে জীবনের সর্বক্ষেত্রেই প্রয়োজন- বিনয়। ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে ঘরে-বাইরে সবার সঙ্গে আচরণে সে বিনয় অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনায় নিজেকে নীচু করে দেওয়ার এ প্রশিক্ষণে যে প্রশিক্ষিত হতে পারবে, অবচেতনভাবেই সম্মান তার কাছে এসে ধরা দেবে; দুনিয়া ও আখেরাতে। দুনিয়ার মানুষের ভালোবাসায় সে সিক্ত হবে আর অর্জিত হবে মহান প্রভুর নৈকট্য।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close