সোনার বাংলাদেশ

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা

পবিত্র ঈদুল আযহা আগামীকাল শনিবার। মুসলিম উম্মাহ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। আত্মত্যাগের নিদর্শন হালাল পশু কোরবানীর মধ্য দিয়ে ঈদুল আযহার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। মুসলমানদের দু’টি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল আযহা একাধিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। তার মধ্যে অন্যতম হলো পশু কোরবানীর মাধ্যমে মানুষের মনের পশুত্ব জবাই করা এবং সামর্থ্যবানদের পবিত্র হজ পালন করা।
বাংলাদেশে গতকাল বৃহস্পতিবার ৮ জিলহজ্ব হলেও সৌদি আরবে বৃহস্পতিবার ছিলো ৯ জিলহজ্ব। বুধবার সারাদিন ও রাতে হাজীগণ মিনায় অবস্থান করেছেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ মিনায় আদায় করার পর আরাফার ময়দানে হাজীগণ অবস্থান করেন। এর পর মুযদালিফার উদ্দেশে আরাফার ময়দান ত্যাগ করেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা’র নামাজ এশা’র ওয়াক্তে একত্রে পড়েন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হন।
এবার সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না কেউ। মহামারি করোনার কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণে বৈশ্বিক মহামারির কারণে এবার স্বল্পসংখ্যক হজযাত্রী নিয়ে হজ হচ্ছে সীমিত পরিসরে।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধব্বনিতে মুখরিত হয় আরাফাতের ময়দান। আজ শুক্রবার পশু কোরবানীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে হযরত ইব্রাহিম (আ.) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে নিজের প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানী দিতে উদ্যত হয়েছিলেন, যা সর্বকালের মানব ইতিহাসে ত্যাগের সর্বোচ্চ উদাহরণ। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কুদরত ও রহমতে ইসমাইলের পরিবর্তে কোরবানী হলো একটি দুম্বা। এর মাধ্যমে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ত্যাগের চরম পরীক্ষায় আল্লাহর দরবারে উত্তীর্ণ হয়ে যান। সেই থেকে বিশ্বের মুসলমানদের জন্য জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে হালাল পশু কোরবানী করার রেওয়াজ চালু হয়।
ইসলামী শরীয়তে সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কোরবানী করা ওয়াজিব। পশু কোরবানীর কারণে ঈদুল আযহা ‘কোরবানীর ঈদ’ নামেও পরিচিত। বস্তুতঃ ঈদুল আযহা শুধুমাত্র পশু কোরবানীর আনুষ্ঠানিকতা নয়, ঈদ সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও আত্মোপলব্ধির শিক্ষা দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে ঈদুল আযহার দিনে হালাল পশু কোরবানী করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কাজ। পবিত্র কোরআনের সুরা কাওসারে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর আপনার পালনকর্তার নামে নামাজ পড়–ন এবং কোরবানী করুন।’
সুরা হজে বলা হয়েছে, ‘কোরবানী করা পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’ কোরবানীর পশু সম্পর্কে পবিত্র কোরআন মজিদে আরো বলা হয়েছে, ‘এগুলোর গোশত বা রক্ত আমার কাছে পৌঁছায় না ; কিন্তু, তোমাদের তাকওয়া আমার কাছে ঠিকই পৌঁছে যায়।’
হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, ‘ঈদুল আযহার দিন কোরবানীর চেয়ে আর কোনো কাজ আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়।’ অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানী দিল না, সে যেন ঈদগাহে না যায়।’
এদিকে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে পৃথক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
Close