ফিচার

আইফোন ১২’তে যেসব নতুন ফিচার থাকছে

বাজারে নতুন ৪টি মডেলের আইফোনের ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাদের এ ঘোষণার সবচেয়ে বড় দিক হলো- ৪টি মডেলের ফোনই হবে ৫জি নেটওয়ার্ক সমর্থিত। গতকাল মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্ক থেকে ভার্চ্যুয়াল ইভেন্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন ৪টি ডিভাইস উন্মোচন করে।

নতুন এ চার ডিভাইসে আইফোন ১২ ও ১২ মিনি এবং আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স ও ১২ প্রো নাম দেওয়া হয়েছে। ফোনগুলোর বাজারমূল্য যথাক্রমে ৯৭, ৮১১/-, ৮৮৯১১/-, ৭১,১১১/-, ৬২২১১/- (ডলারের দাম ৮৯ টাকা ধরে)। কী থাকছে নতুন আইফোনে?

চার্জার বিহীন ফোন

এই প্রথমবারের মতো আইফোনের সাথে কোনো চার্জার অথবা হেডফোন দেওয়া হচ্ছে না। অ্যাপল জানিয়েছে, পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপেক্ষাকৃত বেশি দামি আইফোন ১২ প্রো মডেলে স্ক্রিনটি বড় থাকবে এবং কম আলোয় ছবি তোলার সুবিধার্থে নতুন সেন্সর ব্যবহার করা হবে।

সিরামিক শিল্ড

অ্যাপল জানিয়েছে, আইফোন ১২’তে আগের মডেলগুলোর মতো ৬.১ ইঞ্চি (১৫.৫ সেমি) স্ক্রিন রয়েছে, তবে এখন জমকালো রঙয়ের সেটগুলোর জন্য এলসিডি’র বদলে ওএলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অ্যাপল বলছে, এর কারণে নতুন আইফোন আগের চেয়ে ১১% বেশি সরু করে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে তাদের জন্য।

তারা আরও জানিয়েছে যে নতুন সেটের স্ক্রিন বেশি রেজুলেশনের এবং এতে ডিসপ্লের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সিরামিক শিল্ড ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে হাত থেকে পড়ে যাওয়ার হিসেবে আগের চেয়ে চার গুণ বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে।

ডেপথ সেন্সর

অপেক্ষাকৃত বেশি দামি মডেলগুলোতে বড় আকারের ডিসপ্লে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সেগুলোকে নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে – আইফোন প্রো’র স্ক্রিন ৫.৮ ইঞ্চি থেকে ৬.১ ইঞ্চি এবং প্রো ম্যাক্সের স্ক্রিন ৬.৫ ইঞ্চি থেকে ৬.৭ ইঞ্চি। এছাড়াও এই সেটগুলোতে লিডার (লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং) স্ক্যানার সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর ফলে ফোনের আশেপাশের পরিবেশের জন্য একটি ডেপথ ম্যাপ তৈরি হয়, যার ফলে কম আলোতে অটোফোকাস ছয় গুণ দ্রুততায় করা সম্ভব। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়েলিটির কাজ করার জন্যও এই সেন্সর ব্যবহৃত হতে পারে, যদিও এই ক্ষেত্রে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

ফাইভ জি

স্যামসাং ২০১৯ সালে গ্যালাক্সি এস ১০ ফোন বাজারে ছাড়ে যা ফাইভ জি নেটওয়ার্কে কাজ করে এবং এর পর হুয়াওয়ে, ওয়ান প্লাস ও গুগলও এই ধরণের ফোন বাজারে ছাড়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেসব ফোন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ খুব একটা বেশি নেই। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের টমাস হাসন বলেন, অ্যাপল সাধারণত নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনে না, তারা একটি প্রযুক্তি পরিপক্ক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে সেই প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করে।

স্মার্ট স্পিকার

নিজেদের স্মার্ট স্পিকার হোমপড মিনির একটি নতুন ভার্সনও বাজারে ছেড়েছে অ্যাপল। এটি আরো ব্যাপক পরিসরের ভয়েস কমান্ড সমর্থন করে। পাশাপাশি এটিতে একটি হোম ইন্টারকম সিস্টেমও রয়েছে। অ্যাপলের প্রথম হোমপড ২০১৮ সালে বাজারে ছাড়া হয়, তবে এখন পর্যন্ত অ্যামাজন ও গুগলের স্পিকারের তুলনায় এটি অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close