ইংল্যান্ড

৭০ শতাংশ কার্যকর অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন

করোনা প্রতিরোধে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ভ্যাকসিনটি ৭০ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হওয়ার দাবি করেছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বড় আকারে চালানো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রাপ্ত ফলের ভিত্তিতে এমন দাবি করা হয়েছে।

প্রায় ১০ মাস ধরে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার (২৩ নভেম্বর) গবেষকরা দাবি করেছেন ভ্যাকসিনটি ৭০ শতাংশ সফলতা পেয়েছে। এটি ব্যবহারের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে বড় আকারের পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিল। এসব স্বেচ্ছাসেবীর ৫০ ভাগ যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা আর ৫০ ভাগ ব্রাজিলের। পরীক্ষায় দেখা গেছে ভ্যাকসিনের দুই ডোজ গ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে ৩০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর ডামি বা নকল ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে ১০১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর ভিত্তিতে গবেষকরা বলছেন, ভ্যাকসিনটি ৭০ শতাংশ কার্যকরী।

পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, যখন স্বেচ্ছাসেবীদেরকে দুইটি উচ্চ ডোজ দেওয়া হয় তখন তাদের ৬২ শতাংশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। তবে যখন একটি উচ্চ মাত্রার ডোজ ও একটি নিম্ন মাত্রার ডোজ দেওয়া হয়, তখন এটি ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়। কেন এ দুইটির মধ্যে পার্থক্য হলো তা স্পষ্ট নয়।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান পরীক্ষক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা এ ফলাফল নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট।’

অক্সফোর্ডের টিকার আগে সম্প্রতি তিনটি টিকার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে। এগুলো হলো ফাইজার-বায়োএনটেক, স্পুটনিক ও মডার্না। ফাইজারের তৈরি করোনাভাইরাসের (কোভিড–১৯) টিকা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে। এই টিকায় উল্লেখযোগ্য কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি মডার্না ইনকরপোরেশন গত সোমবার জানায়, তাদের তৈরি টিকা করোনা ঠেকাতে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর। আর রাশিয়ার দাবি, তাদের তৈরি স্পুটনিক টিকার কার্যকারিতা ৯০ শতাংশের বেশি।

এসব টিকার তুলনায় অক্সফোর্ডের টিকা কম কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে এটি মহামারি মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, অন্য ভ্যাকসিনগুলোর তুলনায় অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন অনেক সাশ্রয়ী। এটি তুলনামূলকভাবে সংরক্ষণ করা সহজ। আর সেকারণে সহজেই এটি পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close