ধর্মসমগ্র বিশ্ব

চীনে মুসলিমদের জোর করে দেওয়া হচ্ছে কমিউনিস্ট আদর্শ

চীনে উইঘুর মুসলিমদের ওপর সবসময় কমিউনিস্ট আদর্শ এবং চীনা সংস্কৃতির শিক্ষা জোর করে চাপয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করেছেন চীনের উইঘুর অঞ্চলের অ্যাক্টিভিস্ট আব্দুওয়েলি আয়ুপ। তিনি বলেছেন, ‘ফলে উইঘুরদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের নিজেদের ভাষা এবং সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলতে পারে।’ কানাডার সংবাদমাধ্যম দ্য পোস্ট মিলেনিয়ালকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাতকারে আয়ুপ উইঘুর জনগোষ্ঠীর ওপর চীন সরকারের অত্যাচারকে হিটলারের হলোকাস্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকিতে উইঘুরদের জন্য কোনো কিন্ডারগার্টেন নেই। আবার উইঘুরদের আত্মপরিচয় মুছে ফেলে মূলস্রোতে নিয়ে আসতে সেখানে ডিটেনশন ক্যাম্পও তৈরি করেছে চীন সরকার।’

আব্দুওয়েলি আয়ুপ অভিযোগ করে বলেন, ‘কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসা করানোর জন্য তারা জোর করে চীনা দেশপ্রেমের গান গাওয়ায়। আর ওই সব গানে থাকে মাও সেতুংসহ অন্যান্য কমিউনিস্ট নেতাদের প্রসংসা। এছাড়া উইঘুরদের দিয়ে জোর করে কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসা লেখানো হয়।’

আইয়ুপ বলেন, ‘নাৎসিদের অধীনে থাকা ইহুদিরা তাদের ভাষায় (ইহুদি) যোগাযোগ করতে পারত। উইঘুরদের ক্ষেত্রে সেটাও সম্ভব নয়। এছাড়া উইঘুরদের মধ্যে বয়স্কদের নির্যাতন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে আর বাচ্চাদের রাখা হয়েছে বোর্ডিং স্কুলে। যার ফলে তাদের মধ্যেও কোনো যোগাযোগ করার সুযোগ রাখা হয়নি।’

আয়ুপ আরও দাবি করেন, বাচ্চাদের ম্যান্ডারিন ভাষা বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। যেহেতু তাদের বেশিরভাগ চীনা ভাষায় কথা বলতে পারে না, তাই বাচ্চারা বেশি কথা বলে না। এমনকি তারা হাসাও ভুলে গেছে কারণ তাদের এমন ভাষায় কথা বলতে হয় যা তাদের নিজস্ব না।

চীনের শিশুদের দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে আয়ুপ আরও বলেন, ‘উইঘুরে প্রায় ৯ লাখ শিশুর পরিবার নেই। এটা খুব কষ্টদায়ক।’

২০১৩ সালে চীনের সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আয়ুপ। সেই অভিজ্ঞাতা বর্ণনা করতে গিয়ে আয়ুব জানান, তখন তাকে আমেরিকান গুপ্তচর হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছিল চীন। এছাড়া শিশুদের উইঘুর ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর জন্য কিন্ডারগার্টেন খোলার জন্য আয়ুপকে জেলে ভরা হয়েছিল। তাকে প্রায় ছয় মাস ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যেখানে চীনা আইন অনুসারে, জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়াটি ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় বলে জানান আইয়ুপ।

২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ তহবিল সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং তাকে অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগকে সমর্থন করার কোনো প্রমাণ না থাকায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ মালিকানাধীন পাবলিক সেভিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। তিনি অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং ১৫ মাস পরে মুক্তি পান। তবে তার পর থেকে চীন থেকে বের হওয়ার আগে তিনবার আইয়ুপকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close