ইংল্যান্ডএডিটর্স পিকস

যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ‘একপঞ্চমাংশ বেশি’ মৃত্যু

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মানুষের মৃত্যু প্রায় একপঞ্চমাংশ বেশি বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এমনটিই দেখা গেছে। কোভিড-১৯ মহামারীকে এর জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, দেশটির সর্বশেষ প্রকাশিত জাতীয় পরিসংখ্যানে গত ৭ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর (মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ) পর্যন্ত এক সপ্তাহে ১৩ হাজার ৯৭২ জন মারা গেছেন।

তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৩৮ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সেই হিসাবে এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ওই সপ্তাহে করোনাভাইরাস মহামারীতে ৬০০ জন বেশি মারা গেছেন।

তাছাড়া, এক সপ্তাহে মৃত্যুর এই সংখ্যা দেশটিতে গত পাঁচ বছরে মানুষের গড় মৃত্যুর তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাজ্যে ‘অতিরিক্ত’ মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান থেকে এ বছরের সঙ্গে একই সময়ে গত পাঁচ বছরের গড় মৃত্যুর ফারাক চোখে পড়ার মত। দেশটিতে কোভিড-১৯ মহামারীতে মৃত্যু দিন দিনই বাড়ছে।

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মৃত্যু সনদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নর্থ ওয়েস্ট এবং ইয়র্কশায়ারে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উভয় অঞ্চলেই ধারণার চেয়ে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ বেশি।

পাঁচ বছরের গড় মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করলে সাউথ ইস্ট এ মৃত্যু ২ শতাংশ বেশি। তবে মৃত্যুর হার বাড়লেও দ্রুত তা কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কারণ, যু্ক্তরাজ্য সরকার রোগ শনাক্তের ভিত্তিতে দৈনিক মৃত্যুর যে তালিকা প্রকাশ করছে, তাতে মৃত্যুর সংখ্যা যতটা দ্রুত বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল সেটা ততটা দ্রুত বাড়ছেনা। বরং মৃত্যু হার অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে আছে।

এ বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যে মহামারীর প্রথম ঢেউয়ের সময় রোগ শনাক্তের পরীক্ষা কম হওয়ায় সরকার থেকে মৃত্যুর যে সংখ্যা বলা হয়েছিল, প্রকৃত মৃত্যু তার থেকে বেশি ছিল। এবারও সেটাই হচ্ছে কিনা তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

ইউরোপজুড়ে এখন করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। যা ঠেকাতে যুক্তরাজ্য সরকার দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফা লকডাউন দিয়েছে। গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া চার সপ্তাহের ওই লকডাউন আগামী ২ ডিসেম্বর শেষ হবে।

দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সারাহ স্কোবি বিবিসি’কে বলেন, ‘‘যদিও ইংল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা লকডাউনের মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু আপনি এমনকী আজকের করোনাভাইরাস শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিকে তাকান। দেখবেন তা এই ভাইরাসের ভয়ঙ্কর প্রভাবের কথাই মনে করিয়ে দেবে।”

যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর উচ্চহার দেশটির স্বাস্থ্য পরিষেবার (ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস-এনএইচএস) উপর ‘চাপ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে’ বলেও মনে করেন তিনি।

স্কোবি বলেন, ‘‘কিছু কিছু হাসপাতাল, বিশেষ করে যেখানে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বেশি হয়েছে সেখানকার হাসপাতালগুলো যে অবস্থায় পৌঁছেছে তাতে তারা এরই মধ্যে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে চলে গেছে বলেই বোধ হবে।”

শীতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ আরও বাড়বে বলেই ধারণা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close