খেলাধুলা

গোল করে গুরুকে মেসির স্মরণ

২৫ নভেম্বর। এই তারিখটি বিশ্ব ফুটবল প্রেমিরা মনে রাখবেন যুগ যুগ ধরে। যেমনটা মনের ধরে রেখেছেন ১৯৮৬ সাল থেকে। নামটাও ওই, এখনও যাকে ছাপিয়ে যাননি কেউ। আসবেও না তার মতো। মারিও কেম্পেস বা বাতিস্তুতা, ফার্নান্দো রেডোন্ডো অথবা মিগুয়েল অ্যাঙ্গেল ব্রিন্দিসি, ওর্তেগা, মেসি, মারিয়া- যার ধারে কাছেও নেউ কেউ- তিনি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। সৃষ্টিকর্তার প্রিয় হয়েছেন গত বুধবার। বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটি কফিনের করেই তার সঙ্গে গেছে পরপারে। বাবা-মায়ের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’।

বুয়েন্স আইরেসের উপকণ্ঠে অবস্থিত বেলা ভিস্তা সমাধিস্থলে সমাহিত হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের প্রিন্স। তিনি চলে গেলেও তার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা যে কখনই কমবে না আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের; তার নিদর্শন দেখিয়ে দিয়েছেন ডিয়োগের কাছের শিষ্য লিওনেল মেসি।

আজ রোববার ওসাসুনার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। ক্লাব ফুটবলের এই ম্যাচটিতে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছে মেসির দল। ন্যু ক্যাম্পে এদিন একটি করে গোল করেছেন ব্রাথওয়েট, গ্রিজম্যান কুটিনহো ও লিও নিজেও। কিন্তু এবারের উৎসবের ধরনটা ছিল আলাদা।

ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে গোল করেন লিও। গোলের পরপরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন। ভেতরে ১০ নম্বরের লাল-কালো সমন্বয়ে আরেকটি জার্সি পরিহিত ছিলেন। হাত দুটি উপরের দিকে তুলে তর্জনি বাগিয়ে ছিলেন আকাশের দিকে। যেন কাউকে কিছু বলছেন।

এক সময়কার গুরুকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছিলেন মেসি। কিছুক্ষণ পরে মাঠে ফেলে রাখা নিজের জার্সি তুলে পরে নিলেন। অন্য সময় হলে হয়ত হলুদ কার্ড দেখতে পেতেন। কিন্তু রেফারিও বুঝতে পারছিলেন তার মনের কথা। বলছে যখন…বলুক।

ম্যাচ সামারি-
ওসাসুনা বিপক্ষে ম্যাচটিতে একাদশ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায় বার্সা। ডান দিক দিয়ে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢোকা অঁতোয়ান গ্রিজমানকে আটকাতে নিজের পজিশন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক। তাকে কাটিয়ে ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্যাকপাস দেন ফিলিপে কুটিনহোকে। ফাঁকায় বল পেয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের শট গোললাইন থেকে ফেরান ডিফেন্ডার উনাই গার্সিয়া।

২৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে জরডি আলবার বাড়ানো পাস গোলমুখে পেয়ে কুটিনহোর শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক; কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। আলগা বলে মার্টিন ব্রাথওয়েটের শটও দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকান এররেরা, তবে এবারও পারেননি বল হাতে রাখতে। ডেনিশ ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গোললাইন পার হয়।

৪২তম মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্রিজমান। ৫৭তম মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন কুটিনহো। গ্রিজমানের ছোট পাস পেয়ে ছয গজ বক্সের বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ত্রিনকাওয়ের পাস ডি-বক্সের বাইরে ধরে আড়াআড়ি এগিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন মেসি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close