প্রবাসে সফল বাঙালী

কর্মহারা প্রবাসীর দেশে ফেরার পাল্লা ভারী হচ্ছে

বৈশ্বিক মহামারী করোনার কশাঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের জনশক্তি রপ্তানি খাত। বিভিন্ন দেশ থেকে কাজ হারিয়ে, কারাভোগ শেষে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের দেশে ফেরত আসা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ৮ মাসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কম্বোডিয়া, কুয়েত, কাতার, দুবাইসহ বিশ্বের ২৮টিরও বেশি দেশ থেকে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন প্রায় নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরত এসেছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্সযোদ্ধারা দেশে ফেরত আসেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪, নারী ৩৯ হাজার ২৭৪ জন। এ ছাড়া আউটপাস ৪০ হাজার ৩৮১ জন, পাসপোর্টধারী ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩৭৭ জন।

সূত্র জানায়, সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ৬৮৭ জন ফেরত এসেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরেছেন ৮৭ হাজার ৫২৫ জন। মালদ্বীপ থেকে ফিরেছেন ১৪ হাজার ২২৩ জন। পর্যটননির্ভর দেশ হওয়ায় করোনা ভাইরাসের কারণে দেশটিতে কাজ নেই। তাই মালিক বা কোম্পানি তাদের ফেরত পাঠিয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে এসেছেন ৬ হাজার ৩৪৪ জন। কাজের বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওমান থেকে এসেছেন ১৮ হাজার ৯৫১ জন। তারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাসের মাধ্যমে দেশে ফেরেন। কুয়েত থেকে ১৩ হাজার ৪২৬ জন ফেরত আসেন। আকামা বা ভিসার মেয়াদ না থাকায় বা অবৈধ হওয়ায় সাধারণ ক্ষমার আওতায় তারা ফেরত আসেন। আবার অনেক কর্মী বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে দেশে ফিরেছেন।

বাহরাইন থেকে ফিরে এসেছেন দুই হাজার ৬৩৫ জন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাস নিয়ে ফিরলেও অনেকেই অসুস্থ হয়ে ও চাকরি হারিয়ে ফেরত আসেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত এসেছেন ৭১ জন। তাদের সবাই পুরুষ। কাজ নেই তাই দেশে ফিরে এসেছেন তারা। কাতার থেকে এসেছেন ১৪ হাজার ৯১১ জন এবং মালয়েশিয়া ৩৬ হাজার ৬৯৫ জন। কাজ না থাকায় তারা ফিরে এসেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফেরত এসেছেন ২২০ জন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের দেশে ফিরতে হয়েছে।

এ ছাড়া থাইল্যান্ড থেকে ৮৯, মিয়ানমার থেকে ৩৯ জন ফিরে এসেছেন। কাজ না থাকায় তাদের সবাই ফিরে এসেছেন। জর্ডান থেকে ফেরত এসেছেন দুই হাজার ৩২৯ জন। তাদের সবাই গার্মেন্টশ্রমিক। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফিরে এসেছেন তারা।

ভিয়েতনাম থেকে ফেরত এসেছেন ১২১ জন। তাদের সবাই পুরুষ। প্রতারিত হয়ে ফেরত এসেছেন তারা। কম্বোডিয়া থেকে এসেছেন ১০৬ জন। সবাই পুরুষ। কাজ না থাকায় তারা ফেরত এসেছেন। ইতালি থেকে ফেরত এসেছেন ১৫১ জন। তাদের সবাই পুরুষ। গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ১৫১ বাংলাদেশি কর্মীকে করোনা সন্দেহে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। পরে সবাইকে সেনাবাহিনীর অধীন কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ইরাক থেকে ফেরত এসেছেন ১০ হাজার ১৬৯ জন, শ্রীলংকা থেকে ৫৭৪ জন, মরিশাস থেকে ৪৫২ জন, রাশিয়া থেকে ১০০ জন এবং তুরস্ক থেকে ১২ হাজার প্রবাসী।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই শ্রমিকরা যেন আবার তাদের কাজের জায়গায় ফিরতে পারেন, সে জন্য কাজ করছে সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। বিদেশ থেকে শ্রমিক ফেরত আসা ঠেকাতে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জোরাল চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত বিদেশে অবস্থারত বাংলাদেশি মিশনগুলোকে কাজ করার বিষয়ে বলা হয়েছে। তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে যেসব প্রবাসী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে এ টাকা নেওয়া হবে। প্রত্যাগত শ্রমিক বা তাদের পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদে এক লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এ ছাড়া বাজেটে প্রবাসীদের জন্য বাড়তি আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান আমাদের সময়কে বলেন, বিদেশ ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনে দক্ষতা অনুযায়ী দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোয় কাজের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফেরত আসা প্রবাসীরা যদি দেশে উদ্যোক্তা হতে চান তা হলে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close