আমাদের কমিউনিটি

যুক্তরাজ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য চরমে, বাংলাদেশি পরিবারগুলোর সঞ্চয় লাখ টাকারও কম

ব্রিটেনে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বাংলাদেশিসহ অন্যান্য এথনিক মাইনোরিটি কমিউনিটির (বিএমই) অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর আগে তাদের সঞ্চয় ছিল ১০০০ পাউন্ডের নিচে, অর্থাৎ এক লাখ টাকারও কম। এখন মহামরি পরিস্থিতিতে এসে টিকে থাকতে কঠিন সময় পার করছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির বাসিন্দারা। সম্প্রতি দি রিসলিউশন ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এ চিত্র।

বাংলাদেশিসহ অশ্বেতাঙ্গ মাইনোরিটি কমিউনিটির আর্থিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে অর্থনৈতিক সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন ব্রিটেনের গবেষকরা।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিবারগুলোর বর্তমানে গড় সম্পদের পরিমান ৪২,০০০ পাউন্ড যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সমান। অন্যদিকে ব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোর প্রতিজন সদস্যের গড় সম্পদের পরিমান ১ লাখ ৯৭ হাজার যা বাংলাদেশি টাকায় দুই কোটি টাকারও অনেক বেশি।

সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবারে করোনা মহামারি শুরুর আগে সঞ্চয় ছিল এক হাজার পাউন্ডেরও নিচে। রিসলিউশন ফাউন্ডেশনের অর্থনীতিবিদ জর্জ ব্যাংহাম জানিয়েছেন তারা ব্রিটেনের কর খাত সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের আয় কম তাদের কম করের সুবিধা দিতে, তরুণদের ঘর কিনতে সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্প্রতি অপর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, লন্ডনে প্রতি দশ জন শিশুর নয় জনই আসছে বাংলাদেশিসহ এথনিক মাইনোরিটি (বিএমই) কমিউনিটি থেকে। তারপরও আয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিসহ অশ্বেতাঙ্গরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বিষয়ে ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম আবু তাহের চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একই কাজ করে শ্বেতাঙ্গ কর্মীর তুলনায় আমার ছেলে এক তৃতীয়াংশ কম বেতন পায়। আয়ের এই বৈষম্যই মূলত আর্থিক ব্যবধানের বড় কারণ।

তবে শিক্ষাবিদ ও লেখক ড.  রেনু লুৎফা মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত বছরে চল্লিশ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়ের চাকুরিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বের হার খুবই কম। প্রধানত সকল কম আয়ের সেক্টরগুলোতে এদেশে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ। এছাড়া বাংলাদেশিরা এদেশে আয় করে দেশে স্বজনদের দেখভাল করেন। এটা আমাদের সংস্কৃতি। ব্রিটেনে সম্পদ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি বৈষম্যের শিকার হবার ক্ষেত্রে এগুলো মূল কারণ।’

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close