আমাদের কমিউনিটি

১০ ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেলেন আবুল লেইস মিয়া এবং তাঁর বড় ভাই আকদ্দুস আলী

বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা, প্রবাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম তরুণ সংগঠক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি জনাব আবুল লেইছ মিয়া এবং তাঁর বড় ভাই, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জনাব আকদ্দুস আলী মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে বড়ভাই আকদ্দুস আলী মারা যান এবং ১০ ঘন্টা পর সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন।ছোটভাই আবুল লেইস মিয়া। তাদের এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

মরহুম আবুল লেইছকে ‘লিবারেশনের ড্রাইভার’ উল্লেখ করে এমসি কলেজের সাবেক ভিপি এবং সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যেসকল তরুণ তুর্কি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন মরহুম আবুল লেইস সাহেব। আওয়ামী লীগ নেতা ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব গৌছ খান সহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক শহর থেকে আরেক শহর গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ করতে, তহবিল সংগ্রহ ও আন্দোলন সংগঠনে তাঁর ভূমিকা ছিলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মরহুম আবুল লেইসের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে জনাব নজরুল ইসলাম স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের শোক কাতর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি মরহুমদ্বয়ের রুহের মাগফেরাতও কামনা করেন

মরহুম আবুল লেইস লন্ডন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও এক সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৬ বছর। তিনি ৩ ছেলে ২ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। তিনি নিউহ্যামে বসবাস করতেন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসশী গ্রামে তার আদি বাড়ি।

এদিকে আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, মরহুম আব্দুল লেইস মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি, বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জের সাবেক এমপি, জনাব শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি মরহুম আবুল লেইস সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “আমি, ’৮০ সালে যুক্তরাজ্যে আসার পর আদর্শিক কারণে যে মানুষটির সাথে প্রথমেই ঘনিষ্ঠতা জন্মায় তিনি হলেন আবুল লেইস মিয়া। নতুন দেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমিতিতে তিনিই আমাকে নিয়ে যেতেন। একসাথে বহু বছর কাজ করার মাধ্যমে এক বিশেষ আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে তাঁর সাথে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমৃত্যু অবিচল এই মানুষটি রাজনীতির পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও ছিলেন সোচ্চার। জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র আবুল লেইস মিয়ার অকালে চলে যাওয়া আওয়ামী লীগ এবং কমিউনিটিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করবে। আমি বঙ্গবন্ধু অন্তপ্রাণ আবুল লেইস মিয়া এবং তাঁর ভাই অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ আকদ্দুস আলীর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জনাব হরমুজ আলী তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম তরুণ সংগঠক ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি, লন্ডন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল লেইস মিয়া ’৭৫ পরবর্তী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন। জনমত ডটকম এর সাথে আলাপকালে তিনিও দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, “তাদের এই মৃত্যুতে কমিউনিটিতে যে শূণ্যতা সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হবার নয়।” তাদের শোককাতর পরিবার পরিজন ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের প্রতিও তিনি গভীর সমবেদনা জানান।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close