সমগ্র বিশ্ব

১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ফাইজারের টিকা শতভাগ কার্যকর

মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি ফাইজারের তৈরি করা করোনাভাইরাসের টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এটি ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের ওপর শতভাগ কার্যকর। বুধবার ফাইজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলবার্ট বোরলা জানিয়েছেন টিকা নিয়ে পাওয়া এই নতুন তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনসহ (এফডিএ) অন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। টিকাটি এই বয়সীদের ওপর প্রয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেলে পরের বছর স্কুল খুলে দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফাইজারের চালানো পরীক্ষায় যুক্ত ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজার ২৬০ জন রোগী। এর মধ্যে টিকা সদৃশ্য ভ্যাকসিন নেওয়া গ্রুপের ১৮ জনের করোনা হলেও টিকা নেওয়া কেউই আক্রান্ত হয়নি। ফাইজার বলছে, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এই বয়সীদের ওপর টিকাটি শতভাগ কার্যকর। এছাড়া অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের মধ্যে টিকার যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিশুদের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি সহনীয়।

বুধবার এক বিবৃতিতে ফাইজার সিইও আলবার্ট বোরলা বলেন, ‘অল্প বয়সী জনগোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য আমাদের ভ্যাকসিন অনুমোদন পাওয়ার গুরুত্ব আমরা বুঝতে পারছি। আর ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের ওপর চালানো পরীক্ষার ফলাফল থেকে আমরা উৎসাহ পাচ্ছি।’

ফাইজার জানিয়েছে, এর আগে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের ওপর চালানো পরীক্ষায় টিকা নেওয়ার পর যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দেখা গেছে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তার পরিমাণ আরও বেশি।

জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন মহামারির অবসান ঘটাতে শিশুদের টিকা দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও কমিউনিটির যথেষ্ট সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দেওয়া হয়ে গেলেও শিশুরা এর বাইরে থাকলে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশটির ২০ শতাংশ মানুষই শিশু। হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে দেশটির ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি থাকতে হবে। এছাড়া দেশটির অনেক প্রাপ্ত বয়স্কই টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close