সোনার বাংলাদেশ

হেফাজতে ইসলামের ব্রিফিং: সংঘর্ষে জড়ালে গদি থাকবে না

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে কেউ সংঘর্ষে জড়ালে তার গদি থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন কট্টরপন্থি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজি। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে হেফাজতের ঢাকা মহানগরের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে হেনস্তার প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম জনমানুষের কথা বলে, মজলুম মানুষের কথা বলে। এটা কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল নয়, ১৮ কোটি মানুষের সংগঠন। এখানে সব দলের লোকেরা আছে। যখন থেকে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয়েছে সেদিন থেকেই দেখেছি সারাদেশের মানুষ এ সংগঠনের সঙ্গে রয়েছে। কারণ হেফাজত কখনো চায় না জোর করে গদি দখল করতে, টেন্ডারবাজি করতে। আমাদের কাজ হচ্ছে, যেখানে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার হবে সেখানেই আমরা কথা বলব। যেখানে ঈমান আক্রান্ত হবে সেখানে কথা বলব। হেফাজত সব সময় ইসলামের পক্ষে কথা বলবে। হেফাজতের সঙ্গে যদি কেউ সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তার গদি টিকবে না। তার গদি থাকবে না।’

মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মিথ্যা, তা সত্য নয়। ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা আশা করব তিনি তার এ বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। একজন সতী নারীকে অপবাদ দিয়ে তার চরিত্র হরণ করা হয়েছে। মামুনুল হককে নিয়ে বাজে সমালোচনা চলছে। মামুনুল হক তার স্ত্রীকে নিয়ে একটা রিসোর্টে গিয়েছিলেন। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের বিশেষ করে, ছাত্রলীগ, যুবলীগের লোকেরা তাকে হেনস্তা করেছে, হত্যার চেষ্টা করেছে। তার নামে যেসব অডিও ক্লিপ বের করা হয়েছে এটা মোটেও সত্য নয়। আমরা এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ করতে পারতাম। কিন্তু এ করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটা করিনি। আমরা ইচ্ছা করলে কয়েক ঘণ্টার নোটিশে ঢাকায় ৫ লাখ লোকের সমাবেশ করতে পারতাম। কিন্তু আমরা সেটা করিনি। জাতি জেনে গেছে কীভাবে গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে সাধারণ মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সেদিন কোনো দলের প্রোগ্রাম ছিল না। সেখানে কোনো ধরনের নেতাও ছিল না। মানুষ নিজেদের অধিকারের জায়গা থেকে সেদিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সেøাগান দিয়েছিল। কিন্তু রাস্তায় নামার আগেই সাধারণ জনতার ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়ে মিডিয়ায় বারবার বলা হয়েছে, সেখানে হেফাজতের তা-ব চালানো হয়েছে। সেখানে তো মিডিয়ার লোকজন ছিল। রাস্তায় একটা টায়ার জ্বালালেই তা-ব হয়? বাংলাদেশের কোন দল আছে যারা রাস্তায় বিক্ষোভ করে না? তারা টায়ার জ্বালায় না? যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালায় তখন তো মিডিয়ার লোকজন এটাকে তাণ্ডব বলে না।

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close