সমগ্র বিশ্ব

চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ বেশি, তবে কেন ভারতে অক্সিজেন সংকট?

চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ বরাদ্দ দিয়েও অক্সিজেন সংকট মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত। সময়মতো সরবরাহ না হওয়ার কারণে হাসপাতালগুলোতে মারা যাচ্ছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেক রোগী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধান অনুযায়ী, অক্সিজেন পরিবহনের সময়সাপেক্ষ ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্রের ঢিলেমি আর আগাম পরিকল্পনার অভাবে ঘটছে এমনটা।

ভারতে অক্সিজেনের উৎপাদন ও চাহিদা

ভারতে এখন শিল্পখাতে ব্যবহারসহ দিনে অক্সিজেন উৎপাদন সক্ষমতা আছে সাত হাজার ১০০ টন। গত ১২ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে চিকিৎসাখাতে অক্সিজেনের চাহিদা ছিল মাত্র তিন হাজার ৮৪২ টন। ১০ দিনের মাথায় ২২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দফতর থেকে জানানো হয়, এ সপ্তাহে কোভিড- ১৯ এ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ২০টি রাজ্যে প্রতিদিন মোট ছয় হাজার ৭৮৫ টন চাহিদার বিপরীতে ছয় হাজার ৮২২ টন তরল অক্সিজেন বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে তিন হাজার ৩০০ টন। তা সত্ত্বেও অক্সিজেনের অভাবে ভুগছে ভারতের হাসপাতালগুলো।

হাসপাতালে কনে অক্সজিনে ফুরয়িে যাচ্ছ?

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে এখন প্রধান সংকট হচ্ছে হাসপাতালের বেডে সময়মতো অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছে না। অক্সিজেন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো অনেক দূরে থাকায় এবং বিতরণ ব্যবস্থা সমন্বিত না হওয়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে।

নিজেদের যথেষ্ট উৎপাদন সক্ষমতা না থাকায় এ সপ্তাহে দিল্লির বেশ কিছু হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের মতো দিল্লির প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতেও কোভিড- ১৯ রোগী বাড়তে থাকায় চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।

সম্প্রতি দিল্লির বাড়তি চাহিদা মেটাতে ভারতের পূর্বাঞ্চলের শিল্প এলাকা থেকে ট্রাকে করে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

পরবহিনে কনে দরিে হচ্ছ?

দিল্লিতে অক্সিজেন আসে দূর-দূরান্তের সাতটি রাজ্য থেকে। আদালতের একটি নথি অনুযায়ী, এসব অক্সিজেন উৎপাদনকেন্দ্রের অনেকগুলোর দূরত্ব দিল্লি থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। গ্যাস শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, অক্সিজেনের বিপজ্জনক ধরনের কারণে যাবতীয় তরল অক্সিজেন অল্প কিছু বিশেষায়িত ট্যাংকারে পরিবহন করতে হয়। তাই সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাই আগাম পরিকল্পনা।

সম্প্রতি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যের হাসপাতালগুলো অক্সিজেন সংকটের কারণে বেসামাল হয়ে পড়েছে। গ্যাসখাতের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এসব এলাকার স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা নিজেদের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ট্যাংকার চলাচল বিঘ্নিত করছেন। এসব বাধার কারণেই বরাদ্দ ৩৭৮ টনের মধ্যে বুধবার ১৭৭ টন অক্সিজেন পেয়েছে দিল্লি। রয়টার্সকে ওই সূত্র জানায়, পরিকল্পনায় ঢিলেমি করে সড়ক পথে অক্সিজেন পরিবহনের পথে হেঁটেছে দিল্লি।

সংকট নরিসনে ভারত কী করছ?

সংকট উত্তরণে যেখানে সবচেয়ে বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন সেখানে রেলপথে ট্যাংকার পরিবহন শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয় বড় গ্যাস কোম্পানি লিনডে ইন্ডিয়াসহ বাকিদের সঙ্গেও কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিমান বাহিনীর মালবাহী উড়োজাহাজে খালি ট্যাংকারগুলো উৎপাদন কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পরে সেখান থেকে অক্সিজেন ভরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সড়কপথে।

এদিকে জার্মানি থেকে ২৩টি ভ্রাম্যমাণ অক্সিজেন উৎপাদন ইউনিটও কেনা হচ্ছে ভারতের সশ্রস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে। তরল অক্সিজেন পরিবহনের জন্য ২৪টি বিশেষায়িত কন্টেইনার কিনতে যাচ্ছে টাটা গ্রুপ। হাসপাতালগুলোকে অক্সিজেন দিতে চাইছে আরও বেশ কিছু কোম্পানি। আর্গন গ্যাস এবং নাইট্রোজেন পরিবহনে ব্যবহার করা ট্যাংকারগুলোকে অক্সিজেন পরিবহনে ব্যবহার উপযোগী করে তোলারও নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়াতে হবে অক্সিজেনের উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close