সমগ্র বিশ্ব

লাঠি হাতে পাহারা দেন নারীরা, করোনা ঢুকতে পারেনি ‘দেশি মদ’ খ্যাত গ্রামে

করোনাভাইরাস সংক্রমণে দক্ষিণ এশিয়ার মৃত্যুপুরী এখন ভারত। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে আর আক্রান্তের সংখ্যাও প্রায় চার লাখ। দেশটিতে মোট মৃত্যু ২ লাখ ৪ হাজার ৭৩২ জন। আক্রান্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৬ জন। দেশটির প্রতিটি রাজ্য, প্রতিটি জেলায় এবং গ্রামে-গঞ্জে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। তবে ছোট একটি গ্রাম রয়েছে এই অতিমারির প্রকোপ থেকে বাইরে!

ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার অন্তর্গত গ্রামটির নাম চিখালার। গ্রামটি পরিচিত ছিল ‘দেশি মদ’ নামে। ভারত কাঁপিয়ে দেওয়া করোনাভাইরাস গ্রামটিতে ঢুকতে পারেনি শুধু সেখানকার নার‌ীদের কারণে। ২৪ ঘণ্টা লাঠি হাতে পাহারায় নারীরা থাকেন বলেই এই অসাধ্য সাধন হয়েছে সেখানে। করোনা সংক্রমণ আটকাতে কোনো বহিরাগতকে গ্রামে ঢুকতে দেন না তারা। নিজেরাও সচরাচর গ্রাম ছেড়ে বের হন না।

ওই গ্রামে প্রবেশের মূল রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে নারীরাই। বিনা প্রয়োজনে কাউকে রাস্তায় ঘুরতে দেখলে প্রয়োজনে লাঠির ঘা মেরে রাস্তা ফাঁকা করতেও পিছপা হয় না তারা। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য গ্রামের নারীরা দুজন যুবককে নিয়োগ করেছেন। ওই দু’জনই প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিসপত্র গ্রামের বাইরে গিয়ে নিয়ে আসে। এরপর সেগুলো বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়।

২০০৯ সালে মোট ৮৭টি পরিবার বাস করত ওই গ্রামে। জনসংখ্যা ৪৭৬ জন। গ্রামে নারী ও পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান। ২৪০ জন নারী ও পুরুষ ২৩৬ জন। এতদিন গ্রামটি কুখ্যাত ছিল দেশি মদের জন্য। বাড়ি বাড়ি বেআইনি দেশি মদ তৈরি করেই মূলত দিনযাপন করতেন গ্রামবাসীরা। এখন গ্রামের এই নারীদের উদ্যোগে সারা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close