টপ স্টোরিজসমগ্র বিশ্ব

এখন ফিলিস্তিনে স্থল হামলাও চালাচ্ছে ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে ১০৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৮ শিশু ও অন্তত ১১ নারী রয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালে দুই দেশের সংঘর্ষে ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

এত হতাহতের মধ্যেও ফিলিস্তিনে বন্ধ হয়নি ইসরায়েলি নাশকতা। আকাশ পথের পাশাপাশি এখন স্থল পথেও যৌথ আক্রমণ শুরু করেছে দেশটির বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ফিলিস্তিনিদের ওপর এই আক্রমণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

আইডিএফের মুখপাত্রের বরাতে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের ‘অপারেশন গার্ডিয়ানস অব দ্য ওয়াল’ নামের এই সশস্ত্র অভিযানে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সাত শতাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এই আক্রমণে ড্রোনও ব্যবহার করছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, গত চারদিনে ফিলিস্তিনে যত হামলা চালানো হয়েছে তার ৯৫ শতাংশই ছিল আকাশপথে। এতে হামাসের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পূরণে কয়েক বছর লেগে যাবে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এর আগে বৃহস্পতিবার গাজা সীমান্তে ইসরায়েল বিপুল পরিমাণ সেনা ও ট্যাঙ্ক মোতায়েন করার খবর পাওয়া যায়।

গত বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতরের দিনও ফিলিস্তিনে বোমাবর্ষণ বন্ধ করেনি ইসরায়েলিরা। দখলদারদের এই হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম তীরেও। সাফা প্রেস এজেন্সি প্রকাশিত ভিডিওতে নাবলুস এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে জেনিন, হেব্রন, তুলকারিম, কালকিলিয়া এলাকাতেও।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, এখনও থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালাচ্ছে হামাস ও ইসরায়েল। অন্যদিকে লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার দাবি করেছে তেল-আবিব।

গত সোমবার থেকে ফিলিস্তিনকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত ৫৮০ জন আহত হয়েছেন এ ঘটনায়। ফিলিস্তিনে করোনা পরিস্থিতি বেসামাল, এই অবস্থায় হামলায় আহত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছে দেশটির হাসপাতাল, চিকিৎসক ও নার্সরা।

আজ-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হামাস গাজা থেকে রকেট ছোড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের বাহিনী গাজায় প্রায় এক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে ইতিমধ্যে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে সাতজন নিহত হয়েছেন হামাসের রকেট হামলায়। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার গাজা সীমান্তে দুটি পদাতিক ও একটি সাঁজোয়া ইউনিট মোতায়েন করে ইসরায়েল। পাশাপাশি আরও সাত হাজার সেনাকে প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার লেবানন থেকে তিনটি রকেট ইসরায়েলের দিকে ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রকেটগুলো ভূমধ্যসাগরে পতিত হওয়ায় তাদের কোনো ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছেন, ওই রকেটগুলো সেখানকার উপকূলীয় কেলাইলেহ অঞ্চল থেকে ছোড়া হয়েছে।

২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সাত সপ্তাহের যুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close