ইংল্যান্ডটপ স্টোরিজ

ব্রিটেনে যেভাবে ছড়াচ্ছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, ২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত আজ

বিজ্ঞানীদের দেওয়া নাম বি.১.৬১৭। কিন্তু ইতোমধ্যে দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে করোনার এই ধরনটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এরইমধ্যে দুনিয়ার অন্তত ৫৩টি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে অধিক সংক্রামক এই ভ্যারিয়েন্ট।

ভারতের বাইরে ব্রিটেনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করোনা রোগীর শরীরে এ ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। ভারতীয় ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে করোনায় দৈনিক সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলছে। গত দুই মাসের মধ্যে ব্রিটেনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছেন শুক্রবার। সংবাদে বলা হয়েছে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪,১৮২ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিলো ৩,৫৪২ জন।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ভারতে প্রথম শনাক্ত হয় করোনাভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি। এরপর পর্যায়ক্রমে যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়াসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এটি।

ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট কী?

সাধারণত ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত তার রূপ পরিবর্তন করে। এর বেশিরভাগ রূপান্তরগুলোই হয় খুব সাধারণ। তবে কিছু রূপান্তর ভাইরাসকে আরও সংক্রামক করে তুলতে পারে। যুক্তরাজ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে পরিচিত বি.১.৬১৭.২ ভাইরাসটি শীতে আতঙ্ক ছড়ানো কেন্ট ভাইরাসের চেয়েও অধিক দ্রুত গতিতে সংক্রমিত হয়।

যুক্তরাজ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

ইংল্যান্ডে এখন পর্যন্ত ছয় সহস্রাধিক মানুষের শরীরে এ ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। স্কটল্যান্ডে ৪৮৩, ওয়েলসে ৬২ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ১৫ জনের শরীরে এটি ধরা পড়েছে।

বোল্টন, ব্ল্যাকবার্ন, উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সেফ্টন, দক্ষিণ-পূর্বের বেডফোর্ড, চেলসফোর্ড এবং ক্যানটারবেরিতে অধিক সংক্রমণের নেপথ্যে রয়েছে এই ভ্যারিয়েন্ট। লন্ডনে ক্রয়েডন, হউনস্লো এবং হিলিংডন এলাকাতেও সিংহভাগ সংক্রমণের নেপথ্যে রয়েছে এটি। ধারণা করা হয়, গ্লাসগোতেও এই ভ্যারিয়েন্টের কারণেই সংক্রমণ বেড়েছে। উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ডের বোল্টন শহরে ৪৮৮ জনের শরীরে এই ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। ব্ল্যাকবার্নে ১৩২,বেডফোর্ড ১০০ এবং সেফটনে ৭২ জনের এই ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে।

যুক্তরাজ্যে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ার ও দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ডের মতো বিভিন্ন স্থানে অধিকাংশ সংক্রমণ ঘটেছে ভারত ফেরত লোকজনের মাধ্যমে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে শনাক্তদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশের এমন ভ্রমণ রেকর্ড ছিল। এর অর্থ দাঁড়ায় সেখানকার কমিউনিটির মধ্যে এই ভ্যারিয়েন্টটি ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, দুই দফার জিনগত চরিত্র বদলের কারণে বি.১.৬১৭ বা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে ডাবল মিউট্যান্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে এটিকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দুনিয়াজুড়ে এটি ছড়িয়ে পারতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডব্লিউএইচও-এর শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন। সূত্র: বিবিসি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close